শীতসন্ধ্যার ল্যাম্পপোস্টের আড়ালের বাংলাদেশ

প্রথমেই মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ,আজকের এই আয়োজনে আমায় আমন্ত্রণ জানানোর জন্য। স্বীকার করে নেয়া ভালো, যে তাজউদ্দীন আহমদের মতো মানুষকে নিয়ে স্মরণসভায় আলোচনা করবার মতো প্রজ্ঞাবান আমি মোটেই নই। সে কাজ অন্য আলোচকেরা করবেন। আমি কাজ করি শব্দ নিয়ে, উপন্যাস নিয়ে। আর ঘটনাচক্রে আমার প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস প্রচেষ্টা, সাক্ষী ছিলো শিরস্ত্রাণ, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের জীবনকে কেন্দ্র করেই লেখা। ফলে, সাদাকালো অক্ষরের মাঝ দিয়ে শ্রদ্ধেয় তাজউদ্দীনের সাথে একটা উল্লেখযোগ্য সময় আমি যাপন করেছি, এখনো করছি। সেই সূত্রেই বোধ করি, আজকের আলোচনায় আয়োজকেরা আমায় কথা বলার যোগ্য মনে করেছেন। আমি কথা বলবো মূলতঃ  দুটো বিষয় নিয়ে। প্রথমতঃ তাজউদ্দীন আহমদকে আমি ঠিক কীভাবে আবিষ্কার করেছি, আর দ্বিতীয়তঃ আজকের বাংলাদেশে তাজউদ্দীনকে ঠিক কোনখানে আমি খুঁজে পাই।Read More »

বাংলাদেশের দিন

সকালের ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন চারপাশ, দূরবীন চোখে দিয়েও সেতুর ওপারের ঢাকা শহরকে দেখা যাচ্ছে না। জেনারেল নাগরার মুখে তাই সামান্য বিরক্তির ভাব, সেটা দেখে কেউ ধারণা করতে পারবে না এই মুহূর্তে তার বুকের ভেতর কেমন সব অনুভূতির উথালপাতাল।

জেনারেল নাগরাকে প্রাথমিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো টঙ্গী পর্যন্ত পৌঁছে অবস্থান নিতে। সেই দায়িত্ব পূরণ করার পরে হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ এসেছে ঢাকার পনেরো মাইলের মাঝে চলে যেতে। এরপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। সেনাপতি যদি সব দেখে সামনে এগিয়ে যেতে চান, তাহলে যেতে পারেন। ঠিক এ জায়গাতে দাঁড়িয়েই নাগরার বুকে আশার সাথে দৌড়াচ্ছে আশঙ্কার ঘোড়া। এখনো পুরো জেনারেল নন, মেজর জেনারেল তিনি। অথচ ঢাকা এখন তার হাতছোঁয়া দূরত্বে চলে এসেছে। ইতিহাসের অংশ হবার ললাটলিপি কি ভাগ্য তার জন্যেই রেখেছে? ঢাকার পতন কি তবে তার হাতেই হতে যাচ্ছে?

Read More »