সুহান রিজওয়ান

লেখালেখি

বোর্হেস বাংলাদেশে এসেছিলেন

আর্জেন্টাইন গল্পকার হোর্হে লুই বোর্হেসের সাথে বাংলাদেশের অন্ততঃ একটি সম্পর্কের কথা জানা ছিল আমার। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ১৯৭১ সালে যে গণহত্যা চালায় এই জনপদে, জানতাম, ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর মতো আরো কিছু লেখকসহ বোর্হেস সেটার বিপক্ষে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা সরকারকে। তবে সম্প্রতি বোর্হেসের সাথে বাংলাদেশের আরো একটি সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছি আমি। জেনেছি, পুরাতন পুঁথির খোঁজে সত্তরের দশকে বাংলাদেশে এসেছিলেন বোর্হেস।

২০২২ এর বইঃ ডি-মাইনর

(১) যখনই কোনো উপন্যাস প্রসঙ্গে বলি আমরা, অনুমিতভাবেই আমাদের মাথায় তখন ঘুরতে থাকে উপন্যাসটা পড়বার স্মৃতি। কোন জায়গাটায় সে উপন্যাস স্পর্শ করেছে আমাদের গোপন কোনো বেদনা, কোন অধ্যায়টা আমাদের নতুন কোনো ভাবনা দিলো, কিংবা কোন জায়গাটা মনে হয়েছে একেবারে গাঁজাখুরি- বলতে বা লিখতে গেলে সেইসব ভাবনাকেই আমরা উল্টেপাল্টে দেখি রুমালের মতো। সাথে, যদি লেখকের অন্যান্য লেখার সাথে পূর্বে যাত্রার অভিজ্ঞতা থাকে আমাদের- সেটাও প্রভাব ফেলে কোনো উপন্যাসকে নিয়ে বলবার সময়।

কিন্তু যখন ঔপন্যাসিকের রচনা-প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত থাকেন পাঠক?

না, পাঠক যদি হয় লেখকের পূর্বপরিচিত, আর সে যদি টের পায় যে এই লেখা নামানোর সময় ঔপন্যাসিক ভাবনার অমুক সড়কটায় পা দিয়েছেন- তখন কিন্তু উপন্যাসটাকে সে অন্য দশটা বইয়ের সাথে একত্রে মেশাতে পারে না। শিরায় মাদক ঢুকলে যেমন চেনা জগতের মাত্রা সংখ্যা বেড়ে যায় – ঠিক তেমনই নতুন একটা বোধ, একটা দৃষ্টিভঙ্গি তখন তার চোখের সামনে চশমার মতো এসে দাঁড়ায় উদ্দিষ্ট উপন্যাস পড়তে গেলে।

আদর্শ পাঠক আর আদর্শ পাঠাগার

 আদর্শ পাঠক নিয়ে কয়েক লাইন 

কাগজের বুকে শব্দ বসাবার ঠিক আগ মুহুর্তে লেখকই হলো আদর্শ পাঠক। সৃষ্টি মুহুর্তের ঠিক পূর্বক্ষণেই আদর্শ পাঠক বিরাজ করে।

আদর্শ পাঠক কোনো গল্পকে পুনরায় জোড়া লাগায় না, তারা গল্পটাকেই বানায় নতুন করে।

আদর্শ পাঠক গল্পকে অনুসরণ করে না, তারা গল্পের অংশ হয়ে ওঠে।

লেখকের ভাবনায় অনলাইন

একবিংশ শতাব্দীর প্রায় কোয়ার্টার সেঞ্চুরি পেরিয়ে অনলাইনকে কেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের লেখকেরা?

সত্যি বলতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সুবাদে পছন্দের লেখকদের অনুসরণ করা পাঠকের জন্য এখন আর দুরুহ নয়। অনলাইনের কর্মকান্ড দেখেই আমরা অনলাইন প্রসঙ্গে কোনো লেখকের মনোভাবের একটা গড় আন্দাজ পাই। তবু, অনুভব করি- সরাসরি তাদের এ সংক্রান্ত ভাবনা শুনতে পারলে আরও ভালো হয়।

ব্যক্তিগত এই ওয়েবসাইটের ৫ বছর পূর্তিতে আমি তাই চেনা কজন সমকালীন লেখকের কাছে হাজিরা দেই অনলাইন ব্যবহারের পেছনে তাদের ভাবনাটা জানতে। সচরাচর কী করেন তারা মূলতঃ ফেসবুক ভারাক্রান্ত অনলাইন জীবনে, কীভাবে অনলাইনে পাঠকের সাথে তারা মিথস্ক্রিয়া করছেন, সেই সক্রিয়তা কীভাবে প্রভাব ফেলছে তাদের লেখার অভ্যাসে- এমন সব প্রশ্ন করে বুঝে নিতে চাই তাদের অনলাইন ব্যক্তিত্বের ধাঁচটাকে।

‘আপনি কীভাবে উপন্যাস লেখেন?’

এটা, নিঃসন্দেহে, ঔপন্যাসিকদের প্রতি মানুষের সবচেয়ে বেশিবার উচ্চারিত প্রশ্নগুলোর একটা। কে জিজ্ঞেস করছে, তার ওপর ভিত্তি করে আপনাকে সর্বদাই একটা সন্তোষজনক উত্তর দিতে হয়। এখানেই শেষ নয়, উত্তর দেয়ার সময় প্রতিবার সেখানে আনতে হয় কিছু বৈচিত্র্যও। শুধু আনন্দের জন্যে না, বরং- যেমনটা লোকে বলে- সত্য খুঁজে পাবার সম্ভাবনাটাকে বাঁচিয়ে রাখতেও। কারণ একটা ব্যাপার আমি নিশ্চিত জানি, যে কীভাবে উপন্যাস লেখা হয় প্রশ্নটা যারা করে, তারা নিজেরাও ঔপন্যাসিক। এবং আমরা প্রতিবারই নিজেকে একটা ভিন্ন উত্তর দেই।

২০২৩ এর বইঃ যে জীবন আমার ছিল

[২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত বইগুলো পড়া শেষে আমার এলোমেলো অনুভূতি গুছিয়ে রাখার জন্য এই ধারাবাহিক। আশা করি, এই স্বেচ্ছা-উদ্যোগ চালু থাকবে বছর জুড়েই। ধারাবাহিকের আজকের পর্বে থাকলো ইমদাদুল হক মিলনের আত্মজীবনী ‘যে জীবন আমার ছিল’ নিয়ে আলাপ।]

লেখকের মৃত্যু ঘটে দুই রকমে।

এক রকমের মৃত্যু তার দৈহিক মৃত্যু, লেখক যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য হলে বিসিএস পরীক্ষার্থীদের এই মৃত্যুদিনটি মুখস্ত করতে হয় অবজেক্টিভে গোল্লা ভরাটের জন্য। আর দ্বিতীয় মৃত্যুটি লেখকের রচনার মৃত্যু, তার রচনা তখন প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলে পাঠকের কাছে। বলা বাহুল্য, সত্যিকার লেখকের জন্য এই মৃত্যুটাই করুণতম।

২০২৩ এর বইঃ জবরখাকি

[২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত বইগুলো পড়া শেষে আমার এলোমেলো অনুভূতি গুছিয়ে রাখার জন্য এই ধারাবাহিক। আশা করি, এই স্বেচ্ছা-উদ্যোগ চালু থাকবে বছর জুড়েই। ধারাবাহিকের আজকের পর্বে থাকলো বর্ণালী সাহার গল্প-সংকলন ‘জবরখাকি’ নিয়ে আলাপ।]

(১)
যুগটা এখন পলিটিকাল কারেক্টনেসের, বাংলা সিনেমার মতো ড্রেসিং-গাউন গায়ের পাইপ টানা চৌধুরী সাহেবদের হাতে অনলাইনে লেখকদের নিল-ডাউন হবার দৃশ্য আজকাল অতি পরিচিত। ইদানিং নাকি ‘লোলিতা’ লেখার জন্য নবোকভকেও ডাকা হচ্ছে শিশুকামী বলে।

কিন্তু সাহিত্যের কাজ কি এসব পলিটিকাল কারেক্টনেসের  গুষ্টি মেরে ব্যক্তিগত অনুভূতির অস্বাভাবিকতাকেই আবিষ্কার করা নয়? অন্য দশজন যা এড়িয়ে যাচ্ছে স্বভাব বশে, লেখকের কাজ কি চিরকাল সেখানেই নজর রাখা না? উদাহরণ হিসেবে যদি প্রেম বিষয়টাকেই বেছে নেই; হাত ধরে রমনা পার্কে বসে বাদাম খাওয়া আর প্যারিসের রাস্তায় কাব্যিক ও কোটেবল বাক্য উচ্চারণের বাইরেও কি সেই প্রেমের একটা কালো রুপ নেই? এমনও তো প্রেম আছে, যা ভেঙে গেলে ছোঁড়া হয় এসিড আর অনলাইনে ছেড়ে দেওয়া হয় ভিডিও? সেই সব অস্বাভাবিকতার গল্প বলাটাও কি লেখকের কাজ নয়?

Page 2 of 18

Powered by WordPress & Theme by Anders Norén

error: Content is protected !!