সুহান রিজওয়ান

লেখালেখি

দুইমুখো বলপয়েন্ট

অ্যাকুরিয়ামের অধিকাংশ মাছের গায়ের রং লালচে, কিছু আছে সোনালি বর্ণের। পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এম মালিক এই বড় ঘরটিতে এলেই মাছগুলোর সাথে কিছু সময় কাটান। বিশেষ করে কাচের দেয়ালে টোকা মারতে তার খুব ভালো লাগে। হঠাৎ আলোড়নে বিব্রত হয়ে পড়া মাছগুলোর দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করার দৃশ্যটা বড় চমৎকার ঠেকে গভর্নর মালিকের কাছে। তবে আজকের পরিস্থিতি ভিন্ন, গভর্নরের নিজেরই এখন মাথার ঠিক নেই।

চারপাশে বসে থাকা মন্ত্রীপরিষদের দিকে তিনি একবার চোখ বোলালেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন, ‘এখন কী করা যায় আপনারাই বলুন। প্রেসিডেন্টকে টেলিগ্রাম করলাম পরশুদিন, এখনো তো সেটার কোনো জবাব এলো না। জানি যে প্রেসিডেন্ট খুব ব্যস্ত মানুষ, তবুও…’

কালভিনোর ‘সিক্স মেমোজ’ নিয়ে কয়েক ছত্র

পড়া হলো লেখালেখি নিয়ে ইতালো কালভিনের বেশ কিছু বক্তব্যের সংকলন ‘সিক্স মেমোজ ফর দা নেক্সট মিলেনিয়াম’। ১৯৮৪-৮৫ এর দিকে The Charles Eliot Norton Lectures সিরিজের অংশ হিসেবে এই বক্তব্যগুলো প্রস্তুত করেছিলেন কালভিনো।

আগামী শতাব্দীর (অর্থাৎ এই একবিংশ শতাব্দীর) সাহিত্যের সম্ভাব্য গতিপ্রকৃতি নিয়ে কয়েকটা প্রবন্ধ জায়গা পেয়েছে আলোচ্য সংকলনে। শোনা যায়, এই বিষয়ে মোট আটটি প্রবন্ধ লেখার পরিকল্পনা ছিলো কালভিনোর, কিন্তু অকাল প্রয়াণের কারণে কাজটি সম্পূর্ণ করা আর হয়ে ওঠেনি তার। ফলে, নামে ‘সিক্স মেমোজ’ হলেও অত্র শতাব্দীর সাহিত্যচর্চার পাঁচটি মাত্রা নিয়েই আলাপ করা হয়েছে এখানে।

সত্যি ছিলো সতীনাথের ঢোঁড়াই!

মানিক, বিভূতি, তারাশঙ্কর যেমন মুখে মুখে ঘোরে বাংলা উপন্যাসের পাঠকের; সতীনাথ ভাদুড়ী সেদিকে যেন বিহার জেলার মতোই দূরে, চট করে তাকে স্মরণ করাটা কঠিন। ফলে এমন দেখেছি অনেক, যে অনেক পাড়া মাড়িয়ে আসা পাঠকেরও সতীনাথকে আবিষ্কার করতে সময় লাগে। তবে বিলম্বে হোক, বা দ্রুত; যখন পাঠক পড়েন সতীনাথকে; বিস্ময়ের এক প্রচন্ড থাবড়া খেয়ে তাকে সোজা হয়ে বসতে হয় তখন। এমন লেখকও আছেন? এভাবে, অ্যাতো নিস্পৃহ থেকে, অ্যাতো অচঞ্চল থেকে, নিজেকে এমন আড়ালে রেখেও তবে উপন্যাস লেখা যায়? সেই পাঠককে তাই প্রচণ্ড ঈর্ষা হয় আমার, যিনি সতীনাথ ভাদুড়ীর উপন্যাস পাঠ করবেন প্রথমবারের মতো।

সুন্দরতম ফুটবলের বিজ্ঞাপণ

(১)
স্মৃতিচারণ বলবো, না ইতিহাস?

যে নামেই ডাকা হোক, প্রচ্ছদ দেখেই আন্দাজ করা যায় যে গ্যারি জেনকিন্সের এই রচনায় চরিত্রের অভাব নেই। কিন্তু কারা এই স্মৃতিচারণের চরিত্র?

অনেকেই। যেমন সাও পাওলোর বড়লোক পাড়ার অ্যাস্ট্রোটার্ফের কোণে দাঁড়িয়ে ফুটবলে লাথি মারতে থাকা বাচ্চাদের দিকে চেয়ে থাকা ওই বুড়ো। আজও ব্রাজিল ওই বুড়োকে চেনে ‘দা ক্যাপিটান’ নামে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত বইপত্র

আন্তর্জালের নানা বাংলাভাষী সমাবেশে নিয়মিত দেখতে পাই পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত বইপত্রের খোঁজ। অথচ ইচ্ছুক পাঠকেরা যখন খোঁজেন বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের ইতিহাস, সংবাদপত্রের কিছু প্রতিবেদন আর ফেসবুকের কিছু বিক্ষিপ্ত পোস্ট ছাড়া তেমন কিছু চট করে খুঁজে পাওয়া যায় না তখন।

ব্যক্তিগত কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বেশ কিছু পড়াশোনা করেছিলাম কয়েক বছর আগে, তখন প্রস্তুত করেছিলাম একটা গ্রন্থ তালিকা। আগ্রহী পাঠকদের কাজে লাগবে ভেবে সেই তালিকাই এখানে তুলে দেওয়া হলো। তবে আমার আগ্রহ মোটামুটি রাজনৈতিক ইতিহাসে সীমাবদ্ধ ছিলো বলে নৃতত্ত্ব সংক্রান্ত বইয়ের তালিকা আমি করিনি, বরং স্মৃতিকথা কিংবা ইতিহাসেই গুরুত্ব দিয়েছি অধিক। আশা করি, সেই খামতি কখনো পূরণ হবে ভবিষ্যতে।

বইমেলা ২০২০/ আলথুসার

(১)
কাফকার শহর প্রাগের সেন্ট ভিটাস ক্যাথেড্রাল, কিংবা জার্মানির কোলোন ক্যাথেড্রালের চাইতে কী কারণে প্যারিসের নটরডেম ক্যাথেড্রাল বেশি আলোড়িত করে আমাদের? প্রশ্নটার উত্তরে বলা যায়, নটরডেমের নামের সাথে আমাদের পরিচিতি। যুগে যুগে দেশে দেশে অগণিত যে সব পাঠক ভিক্টর হুগোর ‘হাঞ্চব্যাক অফ নটরডেম’ পড়েছেন, কোয়াসিমোদো আর এসমেরালদার সাথে ওই স্থাপনাটাও জায়গা করে নিয়েছে তাদের হৃদয়ের স্যাংচুয়ারিতে। উপন্যাস আর উপন্যাসের চরিত্রেরা যখন সত্যি আমাদের মনে ভালোবাসা জাগায়, কোনো পরিসংখ্যান আর তথ্য দিয়ে সেটাকে মোকাবেলা করা যায় না তখন।

অন্য এক কালো আগস্ট

(১)
গত সপ্তায় পাড়ার ছেলেদের সাথে ফুটবলে জিতে পাওয়া রঙ্গিন রুমালটা পকেটে নিয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যদি দেখেন ফুটবলের মাঠে আপনার কতকালের চেনা বন্ধুর বাড়ির সবাইকে পিটিয়ে হত্যা করছে আপনারই পরিচিত সব মানুষ, ক্যামন লাগবে তখন মনের ভেতরে? অথবা আপনার বাড়ির সামনেই নেহায়েত গোবেচারা এক পথচারীর মাথা অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে ইট দিয়ে থেতলে দেবে যখন আপনার অনেকদিনের চেনা কেউ? আট বছর বয়েসের আপনার ক্যামন লাগবে তখন?

নিজের সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা’র কারণে অজস্র বাঙালি পাঠকের চেনা নাম মীজানুর রহমানের কৃষ্ণ ষোলোই নামের স্মৃতিচারণ আমাদের দাঁড় করায় এ প্রশ্নগুলোর মুখে। মাওলা ব্রাদার্স প্রকাশনী মশিউল আলমের সম্পাদনায় ফেব্রুয়ারি ২০১৯-এ প্রকাশ করেছে ‘মীজানুর রহমান রচনাসমগ্র’, কমলালয়া কলকাতা আর ঢাকা পুরাণ-এর মতো আরো দুটো স্মৃতিকথার সাথে সেখানে জায়গা পেয়েছে কৃষ্ণ ষোলোই’ও।

Page 2 of 13

Powered by WordPress & Theme by Anders Norén

error: Content is protected !!