শীতসন্ধ্যার ল্যাম্পপোস্টের আড়ালের বাংলাদেশ

প্রথমেই মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ,আজকের এই আয়োজনে আমায় আমন্ত্রণ জানানোর জন্য। স্বীকার করে নেয়া ভালো, যে তাজউদ্দীন আহমদের মতো মানুষকে নিয়ে স্মরণসভায় আলোচনা করবার মতো প্রজ্ঞাবান আমি মোটেই নই। সে কাজ অন্য আলোচকেরা করবেন। আমি কাজ করি শব্দ নিয়ে, উপন্যাস নিয়ে। আর ঘটনাচক্রে আমার প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস প্রচেষ্টা, সাক্ষী ছিলো শিরস্ত্রাণ, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের জীবনকে কেন্দ্র করেই লেখা। ফলে, সাদাকালো অক্ষরের মাঝ দিয়ে শ্রদ্ধেয় তাজউদ্দীনের সাথে একটা উল্লেখযোগ্য সময় আমি যাপন করেছি, এখনো করছি। সেই সূত্রেই বোধ করি, আজকের আলোচনায় আয়োজকেরা আমায় কথা বলার যোগ্য মনে করেছেন। আমি কথা বলবো মূলতঃ  দুটো বিষয় নিয়ে। প্রথমতঃ তাজউদ্দীন আহমদকে আমি ঠিক কীভাবে আবিষ্কার করেছি, আর দ্বিতীয়তঃ আজকের বাংলাদেশে তাজউদ্দীনকে ঠিক কোনখানে আমি খুঁজে পাই।Read More »

স্তালিনের রোদে পোড়া বুটজোড়া

রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে লিভারপুল হেরে বসার পরের বিকালটায় আমি বেরিয়ে পড়ি মেমেন্টো পার্কের দিকে। একলাই, কারণ জাপানি এক রেস্তোঁরায় খানিক আগে দেড় সপ্তাহ পরে ভাতের সান্নিধ্যে এসেছে বলেই হয়তো, আমার সফরসঙ্গী রিফাত আলম শরীর ম্যাজম্যাজের অজুহাত দেয় এবং টার্কিশ বাথ নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। কিন্তু সফর পরিকল্পনায় বুদাপেস্টের দর্শনীয় স্থান হিসেবে মেমেন্টো পার্ক আমার তালিকায় বেশ উপর দিকেই আছে, সেই জায়গা দেখার সুযোগ আমি কিছুতেই ছাড়বো না।

কিন্তু গুগল ম্যাপ আর হাতের ট্যুরিস্ট গাইডের নির্দেশনা দেখে মেমেন্টো পার্কে যাবার পথ নিয়ে ধাঁধা লাগে আমার, তেমন পরিষ্কার কোনো ধারণা পাওয়াই যায় না। খানিক ভেবে আমি তাই চলে যাই হোস্টেলের গলির মোড়ে। গতকাল থেকেই খেয়াল করেছি, বিভিন্ন বাস কোম্পানির হয়ে আগ্রহী টুরিস্টদের কাছে নানারকম পাস (Pass) আর টিকেট বিক্রি করছে হাস্যজ্বল তরুণ তরুণীরা, কিছু না কিনলেও এদের কাছে তথ্য চেয়ে কেউ ফিরে আসে না। আমি দ্বারস্থ হয়ে যাই ওরকমই একটা তথ্যকেন্দ্রের। মেমেন্টো পার্কে যেতে চাই আমি, কীভাবে যাবো?Read More »

ম্যারিলেসের অলিম্পাস ক্যামেরা আর চিরকুট

প্রথম দেখায় স্টেশনটাকে বেশি সুবিধার লাগে না। টিভি নাটকে বাংলাদেশের মফস্বলের কোনো অনামা রেলস্টেশন দেখাতে হলে যেভাবে সেট সাজাতে হয়, প্রায় সেই আদলেই সাজানো। বাতি জ্বলছে না অনেক জায়গায়। ওভারকোট মোড়া সন্দেহজনক দুয়েকটি অবয়ব, যে দলে পুরুষ আর নারী উভয়েই আছে, প্রায়ই আমাদের আশপাশ দিয়ে ঘোরাঘুরি করে। এদের দিকে দৃষ্টিপাত করে আমার উদ্দেশ্যে নিচুস্বরে নানা মাত্রার সতর্কবাণী ছাড়ে সফরসঙ্গী রিফাত আলম।

ঘটনাস্থল বেলগ্রেড, সময় রাত্রি সোয়া দশটা হবে। সার্বিয়ার রাজধানী থেকে আমরা রওয়ানা হবো হাঙেরির রাজধানী বুদাপেস্টের দিকে।

Read More »

লেখকের বিচার

সিসলিতে- সারাটা জীবন যে জেলায় আমি কাটিয়েছি, যে তিনতলা বাড়িতে আমার দাদী কাটিয়েছেন জীবনের চল্লিশটা বছর, ঠিক তার উল্টোদিকের এক আদালতে আগামী শুক্রবার আমাকে দাঁড়াতে হবে আদালতের কাঠগড়ায়। আমার অপরাধ, তুর্কী জাতীয়তাবাদের অনুভূতিতে প্রকাশ্যে আঘাত করা। সরকারি কৌসুলি আমার তিন বছরের জেল চাইবেন। হয়তো আমার দুশ্চিন্তা করা উচিৎ; কারণ এই আদালতেই, একই অপরাধের দায়ে আর্মেনিয়ান-তুর্কি সাংবাদিক হারান্ত দিঙ্ককে দাঁড়াতে হয়েছিলো, এবং সংবিধানের ৩০১ নম্বর ধারায় তিনি দোষী প্রমাণিত হয়েছিলেন। কিন্তু আমি আশাবাদী। আমার উকিলের মতো আমিও মনে করি যে আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটা দুর্বল, মনে হয় না আমার জেলে যেতে হবে।Read More »

সন্ধ্যা সঙ্গীত

অলিয়ঁস ফ্রসেজে’র জ্যাজ সন্ধ্যায় দলবল নিয়ে বাজাবেন রাহিন ভাই- খবরটা সরবরাহ করে রিশাদ। শুক্রবার সকালে পামুকের এক জীবনের উপন্যাস-ভাবনার পথে আমি তখন হাঁটছি, তার মাঝেই সন্ধ্যার আমন্ত্রণটা বড় ভালো লাগে। ঢাকা শহরের জটিল জীবনচক্রের গোলকধাঁধার আরো একটি নতুন গলি কি রাজপথের মোহে আমি সাড়া দিয়ে বসি রিশাদের ডাকে।

আসন স্বল্পতার ভয়ে রিশাদকে টিকেট কেটে নিতে হলো বিকেলেই, কিন্তু আমি আর রেজা এদিকে লাটের ব্যাটা, বাজানো সাড়ে সাতটায় শুরু হবে জেনে তার আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারলেই আমাদের চলে।

Read More »

ইতিহাসের কালো যাদুকর

গল্পটা প্রতি চার বছরে ফিরে ফিরে আসে। লোকটা নাকি একমাসের জন্য বাড়ির দরজা বন্ধ করে রাখে, বাইরে ঝোলানো নোটিশ উঁচুস্বরে সাক্ষাৎপ্রার্থীদের জানায়- “খেলা দেখার জন্য বন্ধ “। আর এই একটা মাস নিজের প্রিয় চেয়ারে বসে লোকটা কেবল টিভি দ্যাখে আর সেটা নিয়ে লিখে যায়।

লোকটা এদুয়ার্দো গ্যালিয়ানো, খেলাটা ফুটবল, উপলক্ষটা বিশ্বকাপ।Read More »

তাজউদ্দীন কোথায় গেলেন

তাজউদ্দীনের সাথে ছেলেবেলায় আমার ঠিক পরিচয় হয়নি। বিপরীত শব্দ আর পাটিগণিতের ফাঁক গলে সুদূর শৈশব থেকে আবছা হয়ে কখনো কখনো তিনি উঁকি মারেন সামাজিক বিজ্ঞান বইতে, তার জন্য বরাদ্দ হয়ে রয় কিছু নীরস দাপ্তরিক শব্দ বড়জোর, নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হলেন তাজউদ্দীন আহমদ। ফলে, তাজউদ্দীন কখনো আমাদের হয়ে ওঠেন না। শৈশবের- তখনো সহনীয় যানজটের-ঢাকায় একটি ল্যাম্পপোস্টের বেশি কিছু তিনি নন; তিনি তখনো মাস্টারের নিয়মমাফিক প্রশ্নপত্রের জবাবে উগড়ে আসা উত্তরে, মুক্তিযুদ্ধের একটি অব্যয় মাত্র।

ভাবি- সেই তাজউদ্দীন আজ কোথায়? ক্যামন আছেন তিনি?Read More »