ইতিহাসের কালো যাদুকর

গল্পটা প্রতি চার বছরে ফিরে ফিরে আসে। লোকটা নাকি একমাসের জন্য বাড়ির দরজা বন্ধ করে রাখে, বাইরে ঝোলানো নোটিশ উঁচুস্বরে সাক্ষাৎপ্রার্থীদের জানায়- “খেলা দেখার জন্য বন্ধ “। আর এই একটা মাস নিজের প্রিয় চেয়ারে বসে লোকটা কেবল টিভি দ্যাখে আর সেটা নিয়ে লিখে যায়।

লোকটা এদুয়ার্দো গ্যালিয়ানো, খেলাটা ফুটবল, উপলক্ষটা বিশ্বকাপ।Read More »

শেফালির যত জানা-অজানা

বিংশ শতাব্দীতে যে কোনো মাস্টারপিসের আয়ূ হবে মাত্র ১৫ মিনিট! – বহু আগে পড়া কোনো ভ্রমণ-গদ্যের পাতা থেকে জ্ঞানীগুণী কোনো সাদা চামড়ার এই উক্তি মনে রেখেছি অনেক বছর হয়ে গেলো; অথচ ভেতরে ভেতরে কথাটা ঠিকই কামড়ায়। মনে হয়, বিংশ গিয়ে একবিংশ এসে পড়েছে এখন, পনেরো মিনিট চক্রহ্রাস হারে তাই পাঁচ মিনিটে নেমে আসার কথা। আসলে এই মনোযোগের স্থায়িত্ব কতো? তিন মিনিট, না তারও কম? আবার, দুঃসহ এই সময়ে কি এখন কবিতা পড়া সাজে?

কঠিন এসব প্রশ্নের উত্তর অজানা। সুহান তো জানেই না, শেফালিও জানে কি না সন্দেহ। ‘শেফালি কি জানে’ বলে প্রশ্ন ছোঁড়া হাসনাত শোয়েব নিজেও জানে বলে মনে হয় না।Read More »

পিটার্সবার্গের ওস্তাদ

সম্ভবত মুরাকামিই বলেছেন কথাটা। যতই কাছাকাছি হোক দুটো মানুষ, কোনো ক্রমে যদি একজন প্রবেশ করতে পারে অপরজনের ভেতরে- মুখোমুখি বসবার কিছু তখন আর থাকে না। কেবলই অন্ধকার পড়ে রয়। দক্ষিণ আফ্রিকান লেখক জে এম কোয়েটজি এই সত্য জানেন, কিন্তু যে কোনো প্রথম শ্রেণির লেখকের মতোই, দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গে বয়ে বেড়ানো একটি মানুষের জটিল ল্যাবিরিন্থের ভেতরের ঢোকার চেষ্টা তিনি করেছেন ‘দা মাস্টার অফ পিটার্সবার্গ’ উপন্যাসে।

কোয়েটজির আতশ কাঁচের তলায় জায়গা নেওয়া মানুষটি মিখাইলেভিচ। কিন্তু উপন্যাসের কোনো পাঠক হয়তো খানিক আগে থেকেই আগ্রহের পারদ উঁচু করে রাখবেন এই সত্যটি জেনে, যে আঠারোশো উনসত্তরের এক শীতে জার্মানির ড্রেসডেন থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষ করে যে মানুষটি ফিরেছেন পিটার্সবার্গ- উপন্যাসের সেই কেন্দ্রীয় চরিত্র আমাদের কাছে পরিচিত অন্য একটি নামে। ফিওদর দস্তয়েভস্কি।Read More »

হাসি, দেবদারু

অনেক হাজার বছর আগে, তখনো আমি গায়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপ্পড় মেরে ঘুরে বেড়াই। একটির পর একটি নিত্য নতুন চিন্তার সাথে পরিচিত হয়ে যখন উদ্ভ্রান্ত হয়ে উঠছি, নিজের দুইহাত গণ্ডির বাইরে আবিষ্কার করছি বহু লেখক আর চিন্তককে- সেই সহস্র বছরের পুরানো কোনো সন্ধ্যায় আজিজ মার্কেটের তক্ষশীলায় তারেক রহিম আমাকে উপহার দিয়ে চাইলেন একটা ছোটো সাইজের কবিতার বই, ‘ফিরে এসো চাকা’।Read More »

কাঠঠোকরা

প্রাইমারি স্কুলের দুপুরবেলাটায় আমার করার কিচ্ছু থাকতো না। তখনো ডিশ অ্যান্টেনা অ্যাতোটা সর্বগ্রাসী হয়ে ওঠে নাই, সূর্যতরুণ আর আবাহনীর ক্রিকেটের খবর পড়ে রইতো সংবাদপত্রের শেষের দিক থেকে তিন নম্বর পাতায়। বিটিভির পর্দা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ম্যাকগাইভার নামের মহানায়ক বাদ দিলে আমার যাবতীয় প্রেম তখন থেকেই গড়ে ওঠে অক্ষরকে ঘিরে।

Read More »

ইমতিয়ার শামীমের সঞ্চারপথ

কিছু বই আছে, যেগুলো পড়ার পরে মাথার ভেতর ক্রমাগত বুদবুদ ফাটে। এমন একধরনের চিন্তা বা বোধ তখন কাজ করে যে পাঠক জেনে যান, বাদবাকি হার্ডকাভার কি পেপারব্যাকের চাইতে বুকশেলফে এই বিশেষ বইটিকে একটু আলাদা রাখা দরকার। তেমন বই নিয়ে কথা বলাটা মুশকিলের ব্যাপার। ইমতিয়ার শামীমের উপন্যাস আমরা হেঁটেছি যারা  নিয়ে লিখতে বসে সেই দশাই হয়েছে।Read More »