বইমেলা ২০২০/ কিস্তি ০২

২০২০ এর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত বইগুলো পড়া শেষে আমার এলোমেলো অনুভূতি গুছিয়ে রাখার জন্য এই সিরিজ। সম্যক আলোচনা কিছুতেই বলা যায় না এসব শব্দ সমষ্টিকে, আমার বরং মনে হয় আলোচ্য বইগুলো নিয়ে এসব কথাবার্তা পাঠের চটজলদি প্রতিক্রিয়া ছাড়া আর কিছু হতে পারেনি। তবু, আকারে ছোট বলে হোক আর পরিচিতদের সাথে তাদের লেখা নিয়ে তর্ক করার লোভে হোক; দ্রুতই পড়ে নিয়ে নিজস্ব অনুভূতি জানিয়ে রাখলাম আগ্রহীদের।

তিনটি ছোটগল্প সংকলন নিয়ে আজ রইলো সিরিজের দ্বিতীয় পর্ব (প্রথম কিস্তি এইখানে)। Continue reading “বইমেলা ২০২০/ কিস্তি ০২”

বইমেলা ২০২০/ কিস্তি ০১

সুদূর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ফেব্রুয়ারিতে একেবারে নিজের আঙ্গিনা বানিয়ে ফেলা একুশে বইমেলা চত্বরে ব্যস্ততা আর অসুস্থতার প্রকোপে এবার যাওয়া হয়েছে বেশ কম। দিন তিনেক হবে। বই কেনার মাঝে তাই প্রথম দফায় ছিলো পরিচিতদের লেখা বইগুলোই। মেলায় কেনা বই মেলার মাঝেই পড়ে ফেলাটা গরম জিলিপি খাবার মতোই, সারতে পারলে বেশ আরাম লাগে। সেজন্যেই আকারে ছোট বলে হোক আর পরিচিতদের সাথে তাদের লেখা নিয়ে তর্ক করার লোভে হোক; কয়েকটা বই দ্রুতই পড়ে ফেললাম।

পরিচতদের বই নিয়ে আলোচনার করার ঝুঁকি থাকে। থাপ্পড়টাও মারতে হয় ললিত স্বরে, আবার প্রশংসা বিলাতে হলে বজায় রাখতে হয় আঁটোসাঁটো লাইন লেংথ। ফলে আলোচনার ওই ছকে বাঁধা এবং ভুরু কুঁচকানো পথে না হেঁটে আমি তাই এলোমেলো কথাই বলে গেলাম এখানে। আশা রাখি পডকাস্ট আর ইউটিউবারের যুগে বইমেলা ২০২০ থেকে কেনা বাকি বইগুলো নিয়েও এমন খাপছাড়া কথার ঝুলি চালু রাখতে পারবো পরের কোনো অবসরে। Continue reading “বইমেলা ২০২০/ কিস্তি ০১”

হামিম কামালের দর্শন অরণ্য

প্রিয় লেখকের প্রতি পাঠকের প্রেম হয় দুই ঘরানার। এক ধরনের লেখককে পাঠক ভালোবাসে কেবল তাদের লেখার মাধ্যমে। আরেক রকম প্রিয় লেখকের প্রতি ভালোবাসাটা জমে অক্ষরের বাইরে, লেখার প্রতি লেখকের নিবেদনের প্রগাঢ়তা অনুভব করে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কাছে প্রথম ঘরানার লেখক, দ্বিতীয় ধারার লেখক হিসেবে মনে আসে ওরহান পামুকের নাম। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বা সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো কেউ কেউ একই সাথে আবার দুই নৌকায়ও পা রাখেন।

তো বাংলাদেশের মতো জায়গায়, পাঠকগোষ্ঠীর আয়তন যেখানে যথেষ্ট বড় নয়, সংবাদ মাধ্যম যেখানে ডুবে রয় নিজস্ব বুদবুদে আর প্রকাশনা ব্যবসা দাঁড়িয়ে থাকে নানা ধরনের ফাঁকির ওপর ভিত্তি করে; তেমন এক দেশে বাস করেও মনোরঞ্জনের সাহিত্যের প্রতি উন্নাসিকতা নিয়ে কেবল জীবন ঘষে আগুন বের করে লেখার প্রতি নিবেদন দেখাচ্ছেন বলে, হামিম কামালের প্রতি আমার অনুরাগ দ্বিতীয় ঘরানায় পড়ছে। পরিচয় আছে বলেই লেখক হয়তো রেগে উঠবেন তাকে প্রথম দলে না রাখায়, এবং কেউ কেউ হয়তো ক্ষেপেও উঠবেন ওই ব্যক্তিগত পরিচিতির সূত্রে আমার পছন্দকে দুই নম্বরি মাল ভেবে। কিন্তু যিনি সত্যি সত্যি লিখতে চান, তিনি জানেন,  তার প্রতিটি অক্ষরকেই উল্টেপাল্টে দেখা হবে মহাকালের কাস্টমসে, এবং পকেটে মিথ্যা থাকলে তাকে ফিরে আসতেই হবে সেই দরজা থাকে। বিগ ব্রাদার আর অগণিত স্মার্টফোনের তীব্র তীক্ষ্ণ নজর এড়িয়ে, মিথ্যা বলার ঝুঁকি এই জমানায় তাই, নিতান্ত অদূরদর্শী না হলে নেয়া যায় না। Continue reading “হামিম কামালের দর্শন অরণ্য”

আশরাফ জুয়েলের কাঠগড়ায়

ছোটগল্পের নিজস্ব একটা ব্যাকরণ আছে। উপন্যাস যেখানে বেশ তাড়িয়ে তাড়িয়ে পাঠকের মনে ঢুকে পা চালায়, ছোটগল্পকে সেখানে হতে হয় এ কালের টি-টোয়েন্টি; চমক বা খোঁচা বা কিল খেতে না পারলে পাঠক বেশ দ্রুত বিস্মৃত হন এমনকি গত কালের পাঠ। কিন্তু এটাও সত্য যে ভালো ছোটগল্পের সাথে সাক্ষাত পাঠকের খুব সহজেই হয় না। আর পোষ মানানো গল্প, যারা আঘাত করতে খুব একটা উৎসাহী নয়- তাদের সাথে আলাপ করেও শান্তি নেই। আশরাফ জুয়েলের রাষ্ট্রধারণার বিরুদ্ধে মামলা ও বিবিধ গল্প নামের সংকলনটি নিয়ে তাই, মনে হলো কিছু কথা বলে ফেলা যায়। Continue reading “আশরাফ জুয়েলের কাঠগড়ায়”