লেখালেখি

Category: উপন্যাস Page 2 of 4

‘দা জেনারেল অফ দা ডেড আর্মি’ নিয়ে কয়েক ছত্র

ইসমাইল কাদারের প্রতি আমার আগ্রহ জন্মায় বছর দুয়েক আগে, প্যারিস রিভিউকে তার সাক্ষাৎকারটা পড়ে। খুব বেশি মানুষ কথা বলে না আলবেনিয়ান ভাষায়; কিন্তু অমন একটা ভাষাতেই লিখে ইউরোপের সেরা ঔপন্যাসিকদের একজন বলে স্বীকৃতি পেয়েছেন কাদারে; সে তথ্যের চেয়েও বেশি আগ্রহ জাগে লোকটার ভাবনার বৈচিত্র্য দেখে। আমাদের অতি পরিচিত গ্রিক পুরাণের চরিত্র আর ঘটনাগুলো দিয়ে লোকটা এমন ভাবে আধুনিক যুগকে ব্যক্ত করেন ওই সাক্ষাৎকারে, পড়তে বেশ মজা লাগে আমার। গুগলের শরণাপন্ন হয়ে বেশ কিছু পড়াশোনাও করি তাকে নিয়ে। এবং নিশ্চিত হই, যে লোকটাকে পড়া দরকার।

জীবনানন্দের লাবণ্য, তলস্তয়ের সোফিয়া

(১)
জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ডুবে গিয়ে অল্পবিস্তর যারা চোখ রেখেছেন কবির ব্যক্তিগত জীবনেও, লাবণ্য দাশ তাদের কাছেও পরিচিত এক নাম। নিজেকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে এমন এক বিপন্ন বিস্ময়ের অনুসন্ধান জীবনানন্দ করে গেছেন, সমকালের চেয়ে পরবর্তী কালেই মানুষ সেটার সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে অধিক। সময় কেটেছে, এবং জীবনানন্দের ছায়া হয়ে উঠেছে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর। অগণিত বাংলাভাষী পাঠক, আজও তারা হাজার বছর ধরে পৃথিবীর পথে হেঁটে চলার ক্লান্তি আবিষ্কার করে যাচ্ছে জীবনানন্দের কবিতায়। নিশ্চিত জানি, ‘কবি’ শব্দটা শুনলেই যে করোটির ভেতরে কোথাও অনুরণন তোলে জীবনানন্দ দাশের নামটা, সে ব্যাপারটা কেবলই আমার ব্যক্তিগত নয়।

অথচ গণমানুষের হৃদয়ে কবিপত্নী লাবণ্য দাশ রীতিমতো এক অসংবেদনশীলতার পিরামিড। জাগতিক বিষয় ভুলে সংসার উদাসীন থাকার যে রোমান্টিক বুদবুদ কবির চারপাশে বুনতে ভালোবাসে ভক্ত দল, জীবনানন্দকে সেটার উদাহরণ হিসেবে টানলে পরীক্ষার পাতায় দশে সাড়ে নয় পাওয়াটাও সম্ভব। কিন্তু পশ্চিমের মেঘে সোনার সিংহ আবিষ্কার করা জীবনানন্দের বিপরীতে তার স্ত্রী লাবণ্যের কুঁচো চিংড়ি কেনার দৈনন্দিন জীবন হয়ে উঠেছে পাঠকের চক্ষুশূল।

কী বলি, যখন হারুকি মুরাকামিকে নিয়ে বলতে যাই

(১)

নিখুঁত লেখা বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই, যেমন নেই নিরেট কোনো হতাশা।

হারুকি মুরাকামির প্রথম উপন্যাস ‘হিয়ার দ্যা উইন্ড সিং’ শুরু হয়েছে অন্য কোনো লেখকের মুখে শোনা এই বাণী উদ্ধৃত করে।

(২)
ঢাকা শহরের অজস্র রাজপথ, কিংবা তা হতে উদ্ভূত ভেতরের গলি, তস্যগলির মাঝে কিছু রাস্তা আমরা নিজস্ব বলে চিহ্নিত করে রাখি। কারো জন্য সেটা হতে পারে মাসুদের দোকান, কারো জন্য সেটি চাচীর টং, কারো জন্য বরাদ্দ থাকে বারেক স্টোরের বেঞ্চি। জানেন আড্ডাপ্রেমী মানুষ মাত্রই, এ জাতীয় আড্ডাগুলো মুখর হয়ে থাকে বিবিধ প্রশ্ন, বিচারকাজ এবং আক্ষেপে।

কফিশপের মানুষেরা

বর্ণালী সাহার ‘দ্যা নর্থ এন্ড’ উপন্যাসটি পড়বো বলে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়নি আমার দুটো কারণে। ফেসবুক মারফত নজরে আসা মাত্র মনে হয় যে, কি নামকরণে কি প্রচ্ছদে, এই উপন্যাসটি বেশ অভিনব। তদুপরি বিক্ষিপ্তভাবে নানা জায়গায় বর্ণালীর টুকরো টুকরো রচনাগুলো যা পড়া হয়েছে, তাতে করেও তার গদ্যে বেশ আস্থা স্থাপিত হয়। বর্ণালীর প্রথম উপন্যাস হিসেবে ‘দ্যা নর্থ এন্ড’কে সংগ্রহ করাকে কর্তব্য নির্ধারণে আমি তাই দ্বিধান্বিত হইনি।

অথচ মার্চের এক সন্ধ্যায়, ঘন্টা তিনেক টানা পড়ে শেষ করে ফেলবার পর, ‘দ্যা নর্থ এন্ড’ নিয়ে কিছু বলতে গিয়ে আমার ভেতরে বেশ দ্বিধা চাপে, বিক্ষিপ্ত বলে মনে হয় নিজেকে।

বইমেলা ২০২০/ কিস্তি ০১

সুদূর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ফেব্রুয়ারিতে একেবারে নিজের আঙ্গিনা বানিয়ে ফেলা একুশে বইমেলা চত্বরে ব্যস্ততা আর অসুস্থতার প্রকোপে এবার যাওয়া হয়েছে বেশ কম। দিন তিনেক হবে। বই কেনার মাঝে তাই প্রথম দফায় ছিলো পরিচিতদের লেখা বইগুলোই। মেলায় কেনা বই মেলার মাঝেই পড়ে ফেলাটা গরম জিলিপি খাবার মতোই, সারতে পারলে বেশ আরাম লাগে। সেজন্যেই আকারে ছোট বলে হোক আর পরিচিতদের সাথে তাদের লেখা নিয়ে তর্ক করার লোভে হোক; কয়েকটা বই দ্রুতই পড়ে ফেললাম।

পরিচতদের বই নিয়ে আলোচনার করার ঝুঁকি থাকে। থাপ্পড়টাও মারতে হয় ললিত স্বরে, আবার প্রশংসা বিলাতে হলে বজায় রাখতে হয় আঁটোসাঁটো লাইন লেংথ। ফলে আলোচনার ওই ছকে বাঁধা এবং ভুরু কুঁচকানো পথে না হেঁটে আমি তাই এলোমেলো কথাই বলে গেলাম এখানে। আশা রাখি পডকাস্ট আর ইউটিউবারের যুগে বইমেলা ২০২০ থেকে কেনা বাকি বইগুলো নিয়েও এমন খাপছাড়া কথার ঝুলি চালু রাখতে পারবো পরের কোনো অবসরে।

দস্তয়েভস্কির দানবেরা

(১)
ফিওদর দস্তয়েভস্কির সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাসটি, সম্ভবতঃ ‘অপরাধ ও শাস্তি’। আগ্রহী পাঠকের স্মরণ হয়, গোয়েন্দা কাহিনির গতিতে এগিয়ে চলা সেই উপন্যাসে তারা প্রত্যক্ষ করেছে রাস্কলনিকোভের প্রবল যুক্তিবাদী চরিত্রের টানাপোড়েন, দহনে পুড়তে পুড়তে যুক্তির সিঁড়ি ভাঙা শেষে যে মানুষটা আবিষ্কার করেছে জীবন কোনো অংক নয়, তত্ত্ব দিয়ে তাকে ব্যাখ্যা করা যায় না কিছুতেই। তো, সেই দস্তয়েভস্কিরই আরেক উপন্যাস দা ডেমনস পড়তে গিয়ে রাস্কলনিকোভকে কখনো কখনো স্মরণ হবার কারণ হচ্ছে, এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র পিওতর স্তেপানোভিচের সাথেও কিছু কিছু জায়গায় সাদৃশ্য রয়েছে রয়েছে।

স্বীকার করি, সেই সাদৃশ্য আবিষ্কার করার আগেই দা ডেমনস উপন্যাসের সাথে আমার পরিচয় ঘটে যায় দুটি ভিন্ন রাস্তায়। প্রথম রাস্তাটির অবস্থান জে এম কোয়েটজি’র ‘দা মাস্টার অফ পিটার্সবার্গ’ উপন্যাসে। আঠারোশো উনসত্তরের এক শীতে সৎ পুত্র পাভেলের রহস্যময় মৃত্যুতে দস্তয়েভস্কি সেন্ট পিটার্সবার্গে ফিরে এসেছেন ইউরোপ থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষ করে, এমন এক কাল্পনিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে কোয়েটজির উপন্যাসটির কাহিনি। সেই আখ্যানে দস্তয়েভস্কি মুখোমুখি হন ইতিহাসে কুখ্যাত হয়ে থাকা সের্গেই নাচায়েভ নামের এক নিহিলিস্টের সাথে, আর উপন্যাসটির শেষ পাতায় দস্তয়েভস্কি শুরু করেন ‘দা ডেমনস’ উপন্যাস লেখার কাজ। দা ডেমনস উপন্যাসের সাথে আমার দ্বিতীয় সাক্ষাৎ ঘটে প্রিয় ঔপন্যাসিক অরহান পামুকের এক আলোচনায়। দেখতে পাই, পামুক সেখানে দস্তয়েভস্কির এই উপন্যাসকে আখ্যা দিচ্ছেন সর্বকালের সেরা রাজনৈতিক উপন্যাস বলে।

আলো ছায়ার আগস্টে

(১)

কী ঘটে, যখন আমরা সদ্য রচিত কোনো উপন্যাস পড়ি? কী চলে আমাদের মনের ভেতরে, যখন সেই উপন্যাস লেখা হয় ভিনভাষার বদলে আমার নিজের ভাষায় আর উপন্যাসের প্রেক্ষাপট হয় আমারই চারপাশ?

মাসরুর আরেফিনের উপন্যাস আগস্ট আবছায়া পড়তে বসে, প্রশ্নবোধক চিহ্নের এই দল আমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে একটা সময় জুড়ে।

Page 2 of 4

Powered by WordPress & Theme by Anders Norén

error: Content is protected !!