লেখালেখি

Category: বই আলোচনা Page 1 of 6

বইয়ের দোকানে লোকে যা বলে

মানুষ যে বিচিত্র, সম্ভবত বাজারে গেলেই সেটা সবচেয়ে ভালো বোঝা যায়। আর বইয়ের দোকানও যেহেতু আদতে একরকম বাজারই, সেখানেও বিচিত্র সব মানুষের দেখা মেলে। তেমন বিচিত্র কিছু মানুষের আরো বিচিত্র কিছু কথা নিয়ে জেন ক্যাম্পবেলের সম্পাদনায় একটা ছোট, হালকা বই পড়লাম। উইয়ার্ড থিংস কাস্টোমারস সে ইন বুকশপস। ‘চশমাটা বাড়িতে ফেলে এসেছি, আমাকে একটু প্রথম অধ্যায়টা পড়ে দেবেন?’ থেকে শুরু করে ‘বই ধরলে কি বৈদ্যুতিক শক লাগে?’; এমন সব মজাদার প্রশ্নে যে দুনিয়া জোড়া বইবিক্রেতারা অনবরত নাজেহাল হচ্ছেন ক্রেতাদের কাছে, ছোটো এই বইটা সে ব্যাপারটাই স্পষ্ট করলো। আর আজকের আলাপে থাকলো আলোচ্য বইটা থেকে অনূদিত কয়েকটা ঘটনা।

ইমতিয়ার শামীমের সঞ্চারপথ

(১)
কোথাও পড়েছিলাম, সকল মহৎ উপন্যাসই মোটা দাগে তিনটা চেনা ছকে এগোয়। একটা ছকে কোনো জনপদে নতুন কোনো ব্যক্তি কিংবা বর্গের আগমন ঘটে (দস্তয়েভস্কির ‘ব্রাদার্স কারামাজভ’ যেমন), একটা ছকে দুটো বিপরীত শক্তি পরস্পরের মুখোমুখি হয় (তলস্তয়ের ‘ওয়ার এন্ড পিস’ এই ঘরানার রচনা)। আর উপন্যাসের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ছক যেটা, সেটা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা সমষ্টি বেরিয়ে পড়ে একটা যাত্রা কি অভিযানে; সারভান্তেসের ডন কিহোতের দিগ্বিজয় কিংবা বিভূতিভুষণের অপুর অপরাজিত হয়ে ওঠাটা তেমন যাত্রারই উদাহরণ।

পাঠক যদি স্বীকার করে নেয় যে উপন্যাস পড়া মানে অন্য কারো জুতোয় পা রাখা, তখনই সে বুঝে ফেলে, যে কেন বর্ণিত তৃতীয় ছকটির নকশাই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় সাহিত্যে। উপন্যাস যখন পড়ি, আমরা কি তখন প্রকৃতপক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি বা বর্গের সঞ্চারপথকেই আশ্রয় করি না?

শাহরিয়ার কবিরের সেরা ১০ কিশোর উপন্যাস

অনলাইনে কিংবা চায়ের কাপের আড্ডায় কিশোর বয়েসীদের জন্য ভালো বইয়ের খোঁজ করতে দেখি অনেককে। আন্তর্জালের কল্যাণে বিদেশি ভাষার সুদৃশ্য কিশোরোপযোগী বইগুলোর নামধাম জানা সকলের জন্যেই সহজ এখন। কিন্তু বিপণনের আয়তনের স্বল্পতা হোক, বা সংশ্লিষ্টদের অনীহা; বাংলা প্রকাশনাগুলোর ক্ষেত্রে সেই ঘরানার বইগুলো নিয়ে বেশি আলোচনা দেখি না খুব একটা। বাংলাদেশের কিশোর সাহিত্যে মুহম্মদ জাফর ইকবালের অবস্থানটি দুর্দান্ত সবল, কিশোর বয়েসীদের জন্য ভালো বইয়ের তালিকায় সবাই তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর রচিত গল্প উপন্যাসের কথাই সচরাচর বলেন।

আড়ালে চলে যান শাহরিয়ার কবির।

হেমিংওয়ে, অন্য লেখকদের নিয়ে

বিজ্ঞানীসুলভ অধ্যাবসায় নিয়ে লেখালেখির কাজটাকে গাণিতিক ছকের মতো করে তুলেছিলেন কোন্‌ লেখক, ভাবতে গেলে আর্নেস্ট হেমিংওয়ের নামটাই সবার আগে মাথায় আসে। বাংলাভাষী লেখকদের মাঝে লেখার দক্ষতা অর্জনকে শাস্ত্রের মতো করে তোলার ব্যাপারটা যে সৈয়দ শামসুল হকের মাঝে দেখি, কাকতালীয় মনে হয় না মোটেই, যখন জানতে পাই যে তাকেও তার সহধর্মিনী আনোয়ারা সৈয়দ হক ডাকতেন ‘হেমিংওয়ে’ বলে।

দুইমুখো বলপয়েন্ট

অ্যাকুরিয়ামের অধিকাংশ মাছের গায়ের রং লালচে, কিছু আছে সোনালি বর্ণের। পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এম মালিক এই বড় ঘরটিতে এলেই মাছগুলোর সাথে কিছু সময় কাটান। বিশেষ করে কাচের দেয়ালে টোকা মারতে তার খুব ভালো লাগে। হঠাৎ আলোড়নে বিব্রত হয়ে পড়া মাছগুলোর দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করার দৃশ্যটা বড় চমৎকার ঠেকে গভর্নর মালিকের কাছে। তবে আজকের পরিস্থিতি ভিন্ন, গভর্নরের নিজেরই এখন মাথার ঠিক নেই।

চারপাশে বসে থাকা মন্ত্রীপরিষদের দিকে তিনি একবার চোখ বোলালেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন, ‘এখন কী করা যায় আপনারাই বলুন। প্রেসিডেন্টকে টেলিগ্রাম করলাম পরশুদিন, এখনো তো সেটার কোনো জবাব এলো না। জানি যে প্রেসিডেন্ট খুব ব্যস্ত মানুষ, তবুও…’

কালভিনোর ‘সিক্স মেমোজ’ নিয়ে কয়েক ছত্র

পড়া হলো লেখালেখি নিয়ে ইতালো কালভিনের বেশ কিছু বক্তব্যের সংকলন ‘সিক্স মেমোজ ফর দা নেক্সট মিলেনিয়াম’। ১৯৮৪-৮৫ এর দিকে The Charles Eliot Norton Lectures সিরিজের অংশ হিসেবে এই বক্তব্যগুলো প্রস্তুত করেছিলেন কালভিনো।

আগামী শতাব্দীর (অর্থাৎ এই একবিংশ শতাব্দীর) সাহিত্যের সম্ভাব্য গতিপ্রকৃতি নিয়ে কয়েকটা প্রবন্ধ জায়গা পেয়েছে আলোচ্য সংকলনে। শোনা যায়, এই বিষয়ে মোট আটটি প্রবন্ধ লেখার পরিকল্পনা ছিলো কালভিনোর, কিন্তু অকাল প্রয়াণের কারণে কাজটি সম্পূর্ণ করা আর হয়ে ওঠেনি তার। ফলে, নামে ‘সিক্স মেমোজ’ হলেও অত্র শতাব্দীর সাহিত্যচর্চার পাঁচটি মাত্রা নিয়েই আলাপ করা হয়েছে এখানে।

সত্যি ছিলো সতীনাথের ঢোঁড়াই!

মানিক, বিভূতি, তারাশঙ্কর যেমন মুখে মুখে ঘোরে বাংলা উপন্যাসের পাঠকের; সতীনাথ ভাদুড়ী সেদিকে যেন বিহার জেলার মতোই দূরে, চট করে তাকে স্মরণ করাটা কঠিন। ফলে এমন দেখেছি অনেক, যে অনেক পাড়া মাড়িয়ে আসা পাঠকেরও সতীনাথকে আবিষ্কার করতে সময় লাগে। তবে বিলম্বে হোক, বা দ্রুত; যখন পাঠক পড়েন সতীনাথকে; বিস্ময়ের এক প্রচন্ড থাবড়া খেয়ে তাকে সোজা হয়ে বসতে হয় তখন। এমন লেখকও আছেন? এভাবে, অ্যাতো নিস্পৃহ থেকে, অ্যাতো অচঞ্চল থেকে, নিজেকে এমন আড়ালে রেখেও তবে উপন্যাস লেখা যায়? সেই পাঠককে তাই প্রচণ্ড ঈর্ষা হয় আমার, যিনি সতীনাথ ভাদুড়ীর উপন্যাস পাঠ করবেন প্রথমবারের মতো।

Page 1 of 6

Powered by WordPress & Theme by Anders Norén

error: Content is protected !!