লেখালেখি

Category: উপন্যাস Page 1 of 4

ইলিয়াসের ইনসেপশন

(১)
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’ প্রথম পড়ি এমন এক ধূসর সময়ে, চাইলেও যার স্মৃতি ভোলা সম্ভব নয় আমার পক্ষে।

মনে পড়ে, সিডনি ল্যুমেটের ‘টুয়েলভ অ্যাংরি ম্যান’ দেখার পরে এমন অভিভূত হয়ে যাই, যে সিদ্ধান্ত নেই সেরা কিছু সিনেমা না দেখেই রেখে দিতে হবে; অপঠিত রেখে দিতে হবে সেরা কিছু বইও, যাতে করে ভবিষ্যতে নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে হলে উপাদানের কমতি না পড়ে। ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’ আমি তাই ফেলে রেখেছিলাম কোনো দুঃসময়ের জন্য।

তারও আগে বারবার পড়েও ইলিয়াসের ছোটগল্পের প্রতি মুগ্ধতা আমার কিছুতেই যায় না। বইয়ের দোকানে চোখের ভুরুর গিট্টু হয়ে, দাওয়াত খেতে গিয়ে উৎসবে মেতে, অফিস ফেরতা রিকশাওয়ালার শার্ট থেকে ভেসে আসা গন্ধের মাঝে ইলিয়াস নড়াচড়া করেন তার গোটা জগৎ নিয়ে। ‘বলবো না, নড়বো না, করবো না, সেলফি তুলবো কেবল’ সিনড্রোমে ভুগতে থাকা প্রজন্মের একজন হয়ে অনলাইনের ব্যক্তিগত চিলেকোঠায় ওসমানের মতো স্বমেহন করে নিরুপদ্রব জীবন কাটানো এই আমার দরজায়ও হাড্ডি খিজির হয়ে ইলিয়াস অবিরত হাঁক মারেন।

দ্বিতীয় মাও

এক ধরনের মিশ্র অনুভূতিতে আক্রান্ত হলাম ডন ডি লিলো’র উপন্যাস ‘দ্বিতীয় মাও’ শেষ করে। সেই ডি লিলো, যিনি উপন্যাস লিখতে বসে প্রতি পাতায় কেবল একটা অনুচ্ছেদ বসান, সেই ডি লিলো, আধুনিক মার্কিনি সাহিত্যজগতে পাগলাটে ওঝা বলেও যিনি খ্যাত; তার সাথে অবশেষে আমার সাক্ষাৎ হলো এই ‘দ্বিতীয় মাও’ কে কেন্দ্র করেই। কেমন লাগলো সেই মোলাকাত, তা নিয়ে আলোচনার আগে মনে হয় উদ্দিষ্ট উপন্যাসের কাহিনি সম্পর্কে খানিক বর্ণনা দিয়ে নেওয়া ভালো।

বইমেলা ২০২০/ কিস্তি ০৬

[ ২০২০ এর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত বইগুলোর কয়েকটাকে নিয়ে আমার এলোমেলো পাঠানুভূতি গুছিয়ে রাখার জন্য এই ধারাবাহিক। আজ রইলো এর ষষ্ঠ পর্ব। ধারাবাহিকের সবগুলো কিস্তি পাওয়া যাবে এইখানে ]

সেই বই-ই তো নতুন যা পড়া হয়ে ওঠেনি আমাদের। কাজেই ২০২১ এর মাঝপথ পেরিয়ে গেলেও ২০২০ এর বইমেলায় প্রকাশিত এবং এখনো অপঠিত বইগুলোকে আমি গণ্য করি নতুন বই হিসেবেই। তেমনই দুটো নতুন বই নিয়েই থাকলো আজকের সংক্ষিপ্ত আলাপ।

সাত মানিক

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম বা মৃত্যুবার্ষিকী সমাগত হলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দারুণ সরগরম হয়ে ওঠে তাকে নিয়ে আক্ষেপে। কেন মানিক জনপ্রিয় হলেন না, অথবা বিশ্ব দরবারে অনুবাদের মাধ্যমে তাকে আরো পরিচিত করে তোলা গেলে কী হতে পারতো; এমন সব প্রশ্ন ঘোরে প্রচুর। প্রশ্নের চেয়েও বেশি ঘোরে মানিককে নিয়ে বলতে বলতে জীর্ণ হয়ে পড়া কিছু তথ্যঃ বাজি ধরে গল্প লেখা, নামের বদল, মদ্যপানের নেশা, আর্থিক দুর্গতি, মার্ক্সিস্ট দৃষ্টিভঙ্গি, ফ্রয়েডবাজি।

ইমতিয়ার শামীমের সঞ্চারপথ

(১)
কোথাও পড়েছিলাম, সকল মহৎ উপন্যাসই মোটা দাগে তিনটা চেনা ছকে এগোয়। একটা ছকে কোনো জনপদে নতুন কোনো ব্যক্তি কিংবা বর্গের আগমন ঘটে (দস্তয়েভস্কির ‘ব্রাদার্স কারামাজভ’ যেমন), একটা ছকে দুটো বিপরীত শক্তি পরস্পরের মুখোমুখি হয় (তলস্তয়ের ‘ওয়ার এন্ড পিস’ এই ঘরানার রচনা)। আর উপন্যাসের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ছক যেটা, সেটা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা সমষ্টি বেরিয়ে পড়ে একটা যাত্রা কি অভিযানে; সারভান্তেসের ডন কিহোতের দিগ্বিজয় কিংবা বিভূতিভুষণের অপুর অপরাজিত হয়ে ওঠাটা তেমন যাত্রারই উদাহরণ।

পাঠক যদি স্বীকার করে নেয় যে উপন্যাস পড়া মানে অন্য কারো জুতোয় পা রাখা, তখনই সে বুঝে ফেলে, যে কেন বর্ণিত তৃতীয় ছকটির নকশাই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় সাহিত্যে। উপন্যাস যখন পড়ি, আমরা কি তখন প্রকৃতপক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি বা বর্গের সঞ্চারপথকেই আশ্রয় করি না?

শাহরিয়ার কবিরের সেরা ১০ কিশোর উপন্যাস

অনলাইনে কিংবা চায়ের কাপের আড্ডায় কিশোর বয়েসীদের জন্য ভালো বইয়ের খোঁজ করতে দেখি অনেককে। আন্তর্জালের কল্যাণে বিদেশি ভাষার সুদৃশ্য কিশোরোপযোগী বইগুলোর নামধাম জানা সকলের জন্যেই সহজ এখন। কিন্তু বিপণনের আয়তনের স্বল্পতা হোক, বা সংশ্লিষ্টদের অনীহা; বাংলা প্রকাশনাগুলোর ক্ষেত্রে সেই ঘরানার বইগুলো নিয়ে বেশি আলোচনা দেখি না খুব একটা। বাংলাদেশের কিশোর সাহিত্যে মুহম্মদ জাফর ইকবালের অবস্থানটি দুর্দান্ত সবল, কিশোর বয়েসীদের জন্য ভালো বইয়ের তালিকায় সবাই তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর রচিত গল্প উপন্যাসের কথাই সচরাচর বলেন।

আড়ালে চলে যান শাহরিয়ার কবির।

দুইমুখো বলপয়েন্ট

অ্যাকুরিয়ামের অধিকাংশ মাছের গায়ের রং লালচে, কিছু আছে সোনালি বর্ণের। পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এম মালিক এই বড় ঘরটিতে এলেই মাছগুলোর সাথে কিছু সময় কাটান। বিশেষ করে কাচের দেয়ালে টোকা মারতে তার খুব ভালো লাগে। হঠাৎ আলোড়নে বিব্রত হয়ে পড়া মাছগুলোর দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করার দৃশ্যটা বড় চমৎকার ঠেকে গভর্নর মালিকের কাছে। তবে আজকের পরিস্থিতি ভিন্ন, গভর্নরের নিজেরই এখন মাথার ঠিক নেই।

চারপাশে বসে থাকা মন্ত্রীপরিষদের দিকে তিনি একবার চোখ বোলালেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন, ‘এখন কী করা যায় আপনারাই বলুন। প্রেসিডেন্টকে টেলিগ্রাম করলাম পরশুদিন, এখনো তো সেটার কোনো জবাব এলো না। জানি যে প্রেসিডেন্ট খুব ব্যস্ত মানুষ, তবুও…’

Page 1 of 4

Powered by WordPress & Theme by Anders Norén

error: Content is protected !!