লেখালেখি

Category: বইয়ের আলাপ Page 1 of 7

২০২১ এর বইঃ রঁদেভু

বহুদিন ধরেই মাসুমুল আলমকে পড়বো পড়বো করি। বন্ধুর কাছ থেকে তার উপন্যাস ‘র‍্যাম্প, বার-বি-কিউ আর কানাগলির হুলো’ যোগাড় পর্যন্ত করা হয়, তবুও কেন জানি তাকে পড়া হয়ে ওঠে না। শেষ পর্যন্ত, কোনো এক সন্ধ্যায় সমমনা কজনের সাথে হাতিরপুল এলাকার কনকর্ডের কোনো বইয়ের দোকানে গিয়ে চোখে পড়ে যায় মাসুমুলের ২০২১ এ প্রকাশিত উপন্যাস ‘রঁদেভু’। এবং তখন, দীর্ঘদিনেও ‘…কানাগলির হুলো’কে আক্রমণ না করবার উদাসীনতা আমাকে এমন অপরাধী করে তোলে, যে আরো বইয়ের সাথে উদ্দিষ্ট উপন্যাসকে না কিনে আমার উপায় থাকে না। এবং অবশেষে মাসুমুল আলম পাঠ আমার শুরু হয়, উপন্যাস ‘রঁদেভু’ দিয়েই।

তিন টুকরো আহমাদ মোস্তফা কামাল

আহমাদ মোস্তফা কামালের লেখার সাথে আমার পরিচয় একটা অদ্ভুত ঘটনার মাধ্যমে, মূল আলাপে যাবার আগে সেটা বলার লোভ সামলাতে পারছি না।

মাত্রই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে আমি তখন নিজে টিউশনি ঠ্যাঙ্গানো শুরু করেছি। আমার ছাত্রের বাড়ি সায়েন্স ল্যাবের পাশের এক অ্যাপার্টমেন্টে। ছোকরা নির্বোধ ধরনের, তবে সন্ধ্যা গড়ালে নাস্তা পানি ভালো দেয়।

কয়েক টুকরো সৈয়দ হক

১৯৮৬ সালের জানুয়ারি মাসে ‘সংবাদ’ এর সাহিত্য সাময়িকীর পাতায় যাত্রা শুরু করেছিলো সৈয়দ শামসুল হকের কলাম ‘হৃৎকলমের টানে’। ধারাবাহিক সেই কলাম থেমে গেছে কালের স্রোতে, জীবনাবসান ঘটেছে সৈয়দ হকের পর্যন্ত; কিন্তু বিশ্বাস করি, আজও বাংলাদেশের কোনো সৃজনশীল লেখকের কলম -কি ধারে কি ভারে- পেরিয়ে যেতে পারেনি হক সাহেবের ওই কলামকে। সংকলন হিসেবে প্রকাশিত কলাম ‘হৃৎকলমের টানে’ নামের বইটাকে কয়েক বছর পর আবার পড়তে গিয়েও নিজের পূর্বোক্ত সেই বিশ্বাসে অটল থাকতে হলো।

ইলিয়াসের ইনসেপশন

(১)
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’ প্রথম পড়ি এমন এক ধূসর সময়ে, চাইলেও যার স্মৃতি ভোলা সম্ভব নয় আমার পক্ষে।

মনে পড়ে, সিডনি ল্যুমেটের ‘টুয়েলভ অ্যাংরি ম্যান’ দেখার পরে এমন অভিভূত হয়ে যাই, যে সিদ্ধান্ত নেই সেরা কিছু সিনেমা না দেখেই রেখে দিতে হবে; অপঠিত রেখে দিতে হবে সেরা কিছু বইও, যাতে করে ভবিষ্যতে নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে হলে উপাদানের কমতি না পড়ে। ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’ আমি তাই ফেলে রেখেছিলাম কোনো দুঃসময়ের জন্য।

তারও আগে বারবার পড়েও ইলিয়াসের ছোটগল্পের প্রতি মুগ্ধতা আমার কিছুতেই যায় না। বইয়ের দোকানে চোখের ভুরুর গিট্টু হয়ে, দাওয়াত খেতে গিয়ে উৎসবে মেতে, অফিস ফেরতা রিকশাওয়ালার শার্ট থেকে ভেসে আসা গন্ধের মাঝে ইলিয়াস নড়াচড়া করেন তার গোটা জগৎ নিয়ে। ‘বলবো না, নড়বো না, করবো না, সেলফি তুলবো কেবল’ সিনড্রোমে ভুগতে থাকা প্রজন্মের একজন হয়ে অনলাইনের ব্যক্তিগত চিলেকোঠায় ওসমানের মতো স্বমেহন করে নিরুপদ্রব জীবন কাটানো এই আমার দরজায়ও হাড্ডি খিজির হয়ে ইলিয়াস অবিরত হাঁক মারেন।

শার্লক সন্ধানে

কৌশিক মজুমদারের লেখার সাথে এবারই প্রথম আলাপ নয়, এই মাসখানেক আগেই পড়ার ভাগ্য হয়েছিলো তার রহস্যোপন্যাস, ‘সূর্যতামসী’। উনিশ শতকের কলকাতা শহরে একটি রহস্যময় খুন, ‘দারোগার দপ্তর’ খ্যাত প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় কিংবা বাংলার যাদুকরদের আদিগুরু গণপতি রায়ের উপস্থিতি, শ’খানেক বছর আধুনিক কলকাতাতেও পুরোনো সেই রহস্যের ফিরে আসা; কিছুই যেন বাদ যায়নি সে বইতে। অথচ অমন সব মুখরোচক জাংকফুডের আধিক্য সত্ত্বেও, ‘সূর্যতামসী’ পড়ে অনুভূতি হচ্ছিলো থ্রিলার নয়, রীতিমতো এনসাইক্লোপিডিয়া পাঠের।

দ্বিতীয় মাও

এক ধরনের মিশ্র অনুভূতিতে আক্রান্ত হলাম ডন ডি লিলো’র উপন্যাস ‘দ্বিতীয় মাও’ শেষ করে। সেই ডি লিলো, যিনি উপন্যাস লিখতে বসে প্রতি পাতায় কেবল একটা অনুচ্ছেদ বসান, সেই ডি লিলো, আধুনিক মার্কিনি সাহিত্যজগতে পাগলাটে ওঝা বলেও যিনি খ্যাত; তার সাথে অবশেষে আমার সাক্ষাৎ হলো এই ‘দ্বিতীয় মাও’ কে কেন্দ্র করেই। কেমন লাগলো সেই মোলাকাত, তা নিয়ে আলোচনার আগে মনে হয় উদ্দিষ্ট উপন্যাসের কাহিনি সম্পর্কে খানিক বর্ণনা দিয়ে নেওয়া ভালো।

বইমেলা ২০২০/ কিস্তি ০৬

[ ২০২০ এর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত বইগুলোর কয়েকটাকে নিয়ে আমার এলোমেলো পাঠানুভূতি গুছিয়ে রাখার জন্য এই ধারাবাহিক। আজ রইলো এর ষষ্ঠ পর্ব। ধারাবাহিকের সবগুলো কিস্তি পাওয়া যাবে এইখানে ]

সেই বই-ই তো নতুন যা পড়া হয়ে ওঠেনি আমাদের। কাজেই ২০২১ এর মাঝপথ পেরিয়ে গেলেও ২০২০ এর বইমেলায় প্রকাশিত এবং এখনো অপঠিত বইগুলোকে আমি গণ্য করি নতুন বই হিসেবেই। তেমনই দুটো নতুন বই নিয়েই থাকলো আজকের সংক্ষিপ্ত আলাপ।

Page 1 of 7

Powered by WordPress & Theme by Anders Norén

error: Content is protected !!