লেট দেয়ার বি লাইট

০১)

বড়পর্দার মাঝখানে ভেসে ওঠে ইংরেজী অক্ষরে লেখা ‘স্টপ’ শব্দটি। সেটি ক্রমান্বয়ে বড় হতে থাকে, একসময় সমস্ত পর্দা অধিকার নেয়। নেপথ্যে শোনা যায় কথকের কণ্ঠস্বর। ‘স্টপ’, ‘স্টপ’, ‘স্টপ’, ‘স্টপ’, ‘স্টপ’…

কলকাতা টাউন হলের সমবেত দর্শকেরা দীর্ঘ একটা সময় চুপ করে থাকেন নিজ জায়গায়। এরপরে ধীরে ধীরে করতালি শুরু হয়, তালির শব্দ বাড়তেই থাকে- একসময় তা স্তিমিত হয়ে যায়।Read More »

তর্জনিতে স্বাধীনতা

বন্ধ দরজা খুলে শেখ মুজিবুর রহমান বেরিয়ে এলেন। দেরি হয়ে গেছে। বেলা আড়াইটায় রেসকোর্সের সভা আরম্ভ হবে কথা ছিলো। রুদ্ধদ্বার বৈঠকের নানা আলোচনায় এই ৩২ নম্বরেই আড়াইটা বেজে গেলো।

বাইরে বেরিয়ে শেখ মুজিব গাড়িতে গিয়ে উঠলেন। হাত ইশারা করে তার সাথে পেছনে ডেকে নিলেন তাজউদ্দীনকে। তাজউদ্দীন উঠতে উঠতে চালকের পাশের আসনে গিয়ে বসলেন গাজী গোলাম মোস্তফা। সাদা রঙের মাজদা গাড়িটি যাত্রা করলো রেসকোর্সের দিকে।

Read More »

বাংলাদেশের দিন

সকালের ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন চারপাশ, দূরবীন চোখে দিয়েও সেতুর ওপারের ঢাকা শহরকে দেখা যাচ্ছে না। জেনারেল নাগরার মুখে তাই সামান্য বিরক্তির ভাব, সেটা দেখে কেউ ধারণা করতে পারবে না এই মুহূর্তে তার বুকের ভেতর কেমন সব অনুভূতির উথালপাতাল।

জেনারেল নাগরাকে প্রাথমিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো টঙ্গী পর্যন্ত পৌঁছে অবস্থান নিতে। সেই দায়িত্ব পূরণ করার পরে হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ এসেছে ঢাকার পনেরো মাইলের মাঝে চলে যেতে। এরপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। সেনাপতি যদি সব দেখে সামনে এগিয়ে যেতে চান, তাহলে যেতে পারেন। ঠিক এ জায়গাতে দাঁড়িয়েই নাগরার বুকে আশার সাথে দৌড়াচ্ছে আশঙ্কার ঘোড়া। এখনো পুরো জেনারেল নন, মেজর জেনারেল তিনি। অথচ ঢাকা এখন তার হাতছোঁয়া দূরত্বে চলে এসেছে। ইতিহাসের অংশ হবার ললাটলিপি কি ভাগ্য তার জন্যেই রেখেছে? ঢাকার পতন কি তবে তার হাতেই হতে যাচ্ছে?

Read More »

সাদা লাঠি

“…আমি সে চক্ষু দেখিতে দেখিতে অন্যমনস্ক হই, এর বেশি আর বুঝাইতে পারি না। “
-বিষবৃক্ষ [বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]

প্রতিটা সন্ধ্যায়-এখানে- শুরু হয় নতুন দিন।

সাধারণতঃ মানুষের দিনের শুরু হয় ভোরে। পরীক্ষার্থী ছাত্র আর সদ্য দম্পতির জন্যে দিনের আরম্ভ দেরীতে হতে পারে কিছুটা, পত্রিকা হকার আর মসজিদগামী কিছু মানুষের আবার দিনের শুরু হয় খুব ভোরে। বাবা বলতেন- ঈশ্বর বেহেশতের দরজা খুলে রাখেন ঠিক সূর্যোদয়ের মুহুর্তে। বেহেশতের বাতাসে দিন শুরুর লোভে অবশ্য খুব বেশি মানুষ ভোরে ওঠে না আজকাল, আবার ছাত্রদের প্রতিদিন পরীক্ষা থাকে না। শহরের দিনের শুরুও তাই বদলে বদলে যায়। কিন্তু বাড়িভাড়া নেবার আগে তো সন্ধ্যায় কখনো এদিকটায় আসিনি, নয়নতারা হাউজিং সোসাইটির চার নম্বর বাড়ির তেতলার ফ্ল্যাট ৩/ডি বাসায় উঠবার আগে তাই আমি জানতামই না ঘটনাটা।Read More »

এক-একটা দিন

মৌসুমের ৪র্থ গাঢ়-ছাই রঙ আকাশের দিন,
২য় দশক, একবিংশ শতাব্দী,
ঢাকা।

আজ সকালে বৃষ্টি হলো। কোনো রকম ভেজাল ছাড়াই প্যাঁচপ্যাঁচে গরম আর ঘামের গন্ধ বাড়ানো দোসরহীন ঢাকাইয়া বৃষ্টি। ফলে যেটা ঘটে, ব্যালকনি থেকে ঘড়ির এলোমেলো বিশটি মিনিট কেটে নিয়ে রাস্তা জুড়ে চলা রিকশাগুলো পালিয়ে যায়। মনে হয়, কমসে কম তিন হাজার বছর ধরে এরকম দিন আমার জীবনে আসে না। বরং মনে পড়ে বৃষ্টির তীব্র পাতের মাঝে ঠায় দাঁড়িয়ে আছি স্টেডিয়ামের ওদিকে, ফুটপাথের টিকিট কাউন্টারের ওপরের তেরপল থেকে খানিক পর পর গড়িয়ে পড়ছে জমে থাকা পানি। কে যেন অনুযোগ করছে- আলম ভাইয়ের সাথে বের হলেই তাকে কোনো না কোনো ভাবে বিপত্তির শিকার হতে হয়। আলম ভাই লোকটা কি আজও সহযাত্রীদের বিপদে ফেলে?Read More »