যে আগুন ছড়িয়ে গেলো সবখানে

‘ফুটপাথে দাঁড়িয়ে তোমরা খেলা দেখছো;

দোকানের মধ্যে টিভি স্ক্রিন।

বৃষ্টি এলো। মাথায় রুমাল।

ছাতা খুললো একজন। তিনজন তাঁর গায়ে ঘেঁষে।

একটা করে চার হচ্ছে। দূরে ফাটলো উল্লাসের বাজি।

ফিরে যাচ্ছে অল্প রানে। সমবেত গর্জন হতাশ।’

… জয় গোস্বামীর এই কবিতার মতোই ভিজতে থেকে তুমি চায়ের দোকানটার পাশের সেলুনে মুখ গলিয়েছো স্কোর জানতে, জানি। সবাই তাই করে। আড্ডা তো বাঁধা থাকে না নির্দিষ্ট কোনো রাস্তায়, কেউ কথা বলে রাজনীতি নিয়ে, কেউ বা হাঁকায় প্রোগ্রামিং, কেউ ক্লান্ত রাত জেগে রোগী দেখে এসে। শুধু একটা, কেবল একটা ধ্রুবকই পালটায়নি সেই বৃষ্টিতে ভিজতে থাকা সন্ধ্যায় অথবা ঘামে জবজবে হয়ে বাস থেকে নেমে পনেরো মিনিট হেঁটে এসে চায়ের দোকানে পৌঁছবার পর। ‘চাচা, রান কত?’ জানতে চেয়ে তুমি শঙ্কায় কী উল্লাসে তাকিয়ে থেকেছো এগারোটা লাল-সবুজ জার্সির দিকে।Read More »

পর্দা নামার পরে

এমন কী একেবারে শেষ দৃশ্যেও নাটক। সিনেমায় যেমন হয়। বৃষ্টির প্রবল পাতে ভিজে যাচ্ছে সমবেত সুধীমন্ডলীর ফ্যাশনদুরস্ত কোট আর নিখুঁত ছাঁটের প্যান্ট, পাড়ার ফুটবলে পানিজমা কাদা মাঠে দুষ্টু ছেলের দল দৌড়ে যাচ্ছে মাথায় পতাকা চেপে ছপছপ শব্দ করে, আকাশের হস্তক্ষেপে হয়তো ঢেকে গেলো রাষ্ট্রনায়ক এবং নায়িকার চোখের আবেগ। কবে যে বিশ্বকাপের শেষ মুহুর্তে এমন হতে দেখেছি, তা স্মরণাতীত থেকে যায়।Read More »

রাশিয়ার রাত-দিন ০১

ঈদের পরের মৃতপ্রায় মনোরম ঢাকার ইস্টার্ন প্লাজার সামনে ঝুড়ি বিন্যাস্ত করে বসে থাকা মাঝারি উঁচু গাছটার গায়ে ছাপ্পড় মারা আকাশী-সাদা, আরেকটু এগিয়ে টং দোকানে চা খেতে চাই তো চারফুটের এক ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত গায়ে জার্সি ও মুখে উদ্বেগ নিয়ে হাঁটাহাঁটি করে। আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় খেলায় জিততে পারবে তো? ঈদের বেড়ানো মাটি করে কাজে যোগ দেবার চিন্তায় ফিরে আসা কর্মব্যস্ত অফিস-বাবুটি পর্যন্ত ভাবিত, রোনালদো শালা ওদিকে চার গোল করে ফেললো, আগের ম্যাচে পেনাল্টি মিস করা মেসি এখন কী করবে?

Read More »