লেখালেখি

Category: ইতিহাস Page 1 of 2

কয়েক টুকরো সৈয়দ হক

১৯৮৬ সালের জানুয়ারি মাসে ‘সংবাদ’ এর সাহিত্য সাময়িকীর পাতায় যাত্রা শুরু করেছিলো সৈয়দ শামসুল হকের কলাম ‘হৃৎকলমের টানে’। ধারাবাহিক সেই কলাম থেমে গেছে কালের স্রোতে, জীবনাবসান ঘটেছে সৈয়দ হকের পর্যন্ত; কিন্তু বিশ্বাস করি, আজও বাংলাদেশের কোনো সৃজনশীল লেখকের কলম -কি ধারে কি ভারে- পেরিয়ে যেতে পারেনি হক সাহেবের ওই কলামকে। সংকলন হিসেবে প্রকাশিত কলাম ‘হৃৎকলমের টানে’ নামের বইটাকে কয়েক বছর পর আবার পড়তে গিয়েও নিজের পূর্বোক্ত সেই বিশ্বাসে অটল থাকতে হলো।

ইলিয়াসের ইনসেপশন

(১)
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’ প্রথম পড়ি এমন এক ধূসর সময়ে, চাইলেও যার স্মৃতি ভোলা সম্ভব নয় আমার পক্ষে।

মনে পড়ে, সিডনি ল্যুমেটের ‘টুয়েলভ অ্যাংরি ম্যান’ দেখার পরে এমন অভিভূত হয়ে যাই, যে সিদ্ধান্ত নেই সেরা কিছু সিনেমা না দেখেই রেখে দিতে হবে; অপঠিত রেখে দিতে হবে সেরা কিছু বইও, যাতে করে ভবিষ্যতে নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে হলে উপাদানের কমতি না পড়ে। ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’ আমি তাই ফেলে রেখেছিলাম কোনো দুঃসময়ের জন্য।

তারও আগে বারবার পড়েও ইলিয়াসের ছোটগল্পের প্রতি মুগ্ধতা আমার কিছুতেই যায় না। বইয়ের দোকানে চোখের ভুরুর গিট্টু হয়ে, দাওয়াত খেতে গিয়ে উৎসবে মেতে, অফিস ফেরতা রিকশাওয়ালার শার্ট থেকে ভেসে আসা গন্ধের মাঝে ইলিয়াস নড়াচড়া করেন তার গোটা জগৎ নিয়ে। ‘বলবো না, নড়বো না, করবো না, সেলফি তুলবো কেবল’ সিনড্রোমে ভুগতে থাকা প্রজন্মের একজন হয়ে অনলাইনের ব্যক্তিগত চিলেকোঠায় ওসমানের মতো স্বমেহন করে নিরুপদ্রব জীবন কাটানো এই আমার দরজায়ও হাড্ডি খিজির হয়ে ইলিয়াস অবিরত হাঁক মারেন।

দুইমুখো বলপয়েন্ট

অ্যাকুরিয়ামের অধিকাংশ মাছের গায়ের রং লালচে, কিছু আছে সোনালি বর্ণের। পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এম মালিক এই বড় ঘরটিতে এলেই মাছগুলোর সাথে কিছু সময় কাটান। বিশেষ করে কাচের দেয়ালে টোকা মারতে তার খুব ভালো লাগে। হঠাৎ আলোড়নে বিব্রত হয়ে পড়া মাছগুলোর দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করার দৃশ্যটা বড় চমৎকার ঠেকে গভর্নর মালিকের কাছে। তবে আজকের পরিস্থিতি ভিন্ন, গভর্নরের নিজেরই এখন মাথার ঠিক নেই।

চারপাশে বসে থাকা মন্ত্রীপরিষদের দিকে তিনি একবার চোখ বোলালেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন, ‘এখন কী করা যায় আপনারাই বলুন। প্রেসিডেন্টকে টেলিগ্রাম করলাম পরশুদিন, এখনো তো সেটার কোনো জবাব এলো না। জানি যে প্রেসিডেন্ট খুব ব্যস্ত মানুষ, তবুও…’

সুন্দরতম ফুটবলের বিজ্ঞাপণ

(১)
স্মৃতিচারণ বলবো, না ইতিহাস?

যে নামেই ডাকা হোক, প্রচ্ছদ দেখেই আন্দাজ করা যায় যে গ্যারি জেনকিন্সের এই রচনায় চরিত্রের অভাব নেই। কিন্তু কারা এই স্মৃতিচারণের চরিত্র?

অনেকেই। যেমন সাও পাওলোর বড়লোক পাড়ার অ্যাস্ট্রোটার্ফের কোণে দাঁড়িয়ে ফুটবলে লাথি মারতে থাকা বাচ্চাদের দিকে চেয়ে থাকা ওই বুড়ো। আজও ব্রাজিল ওই বুড়োকে চেনে ‘দা ক্যাপিটান’ নামে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত বইপত্র

আন্তর্জালের নানা বাংলাভাষী সমাবেশে নিয়মিত দেখতে পাই পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত বইপত্রের খোঁজ। অথচ ইচ্ছুক পাঠকেরা যখন খোঁজেন বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের ইতিহাস, সংবাদপত্রের কিছু প্রতিবেদন আর ফেসবুকের কিছু বিক্ষিপ্ত পোস্ট ছাড়া তেমন কিছু চট করে খুঁজে পাওয়া যায় না তখন।

ব্যক্তিগত কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বেশ কিছু পড়াশোনা করেছিলাম কয়েক বছর আগে, তখন প্রস্তুত করেছিলাম একটা গ্রন্থ তালিকা। আগ্রহী পাঠকদের কাজে লাগবে ভেবে সেই তালিকাই এখানে তুলে দেওয়া হলো। তবে আমার আগ্রহ মোটামুটি রাজনৈতিক ইতিহাসে সীমাবদ্ধ ছিলো বলে নৃতত্ত্ব সংক্রান্ত বইয়ের তালিকা আমি করিনি, বরং স্মৃতিকথা কিংবা ইতিহাসেই গুরুত্ব দিয়েছি অধিক। আশা করি, সেই খামতি কখনো পূরণ হবে ভবিষ্যতে।

অন্য এক কালো আগস্ট

(১)
গত সপ্তায় পাড়ার ছেলেদের সাথে ফুটবলে জিতে পাওয়া রঙ্গিন রুমালটা পকেটে নিয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যদি দেখেন ফুটবলের মাঠে আপনার কতকালের চেনা বন্ধুর বাড়ির সবাইকে পিটিয়ে হত্যা করছে আপনারই পরিচিত সব মানুষ, ক্যামন লাগবে তখন মনের ভেতরে? অথবা আপনার বাড়ির সামনেই নেহায়েত গোবেচারা এক পথচারীর মাথা অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে ইট দিয়ে থেতলে দেবে যখন আপনার অনেকদিনের চেনা কেউ? আট বছর বয়েসের আপনার ক্যামন লাগবে তখন?

নিজের সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা’র কারণে অজস্র বাঙালি পাঠকের চেনা নাম মীজানুর রহমানের কৃষ্ণ ষোলোই নামের স্মৃতিচারণ আমাদের দাঁড় করায় এ প্রশ্নগুলোর মুখে। মাওলা ব্রাদার্স প্রকাশনী মশিউল আলমের সম্পাদনায় ফেব্রুয়ারি ২০১৯-এ প্রকাশ করেছে ‘মীজানুর রহমান রচনাসমগ্র’, কমলালয়া কলকাতা আর ঢাকা পুরাণ-এর মতো আরো দুটো স্মৃতিকথার সাথে সেখানে জায়গা পেয়েছে কৃষ্ণ ষোলোই’ও।

বায়োস্কোপের পর্দায় / ০১

তিনটা সিনেমা দেখার টুকরো অভিজ্ঞতা একত্রে করে এই লেখা। এদের মাঝে সাধারণ যোগসূত্র আবিষ্কার করতে চাইলে উঠে আসবে ইতিহাসের প্রসঙ্গটা। দেশ আর কালের ভিন্নতা নিয়েও তিনটা সিনেমাই সত্য কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত।

দা টু পোপস [২০১৯,পরিচালকঃ ফার্নান্দো মেরিলেস]

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ধর্ম একটা হলেও, একই ধর্মাবলম্বীদের মাঝেও বিরোধ কম হয় না কখনোই। নানা মুনির মত, ধর্মের ক্ষেত্রেও বিবিধ রুপ নেয়। কিন্তু ক্যামন হয়, যদি পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানিত ধর্মগুরুদের মাঝেই মতের অমিল হয় আকাশ-পাতাল? ‘সিটি অফ গড’ খ্যাত পরিচালক ফার্নান্দো মেরিলেসের ‘দা টু পোপস’ সিনেমাটা দর্শকের ভাবনাকে দোলালো সেই চিন্তার সুতো ধরেই।

Page 1 of 2

Powered by WordPress & Theme by Anders Norén

error: Content is protected !!