লেখালেখি

Category: ইতিহাস

দুইমুখো বলপয়েন্ট

অ্যাকুরিয়ামের অধিকাংশ মাছের গায়ের রং লালচে, কিছু আছে সোনালি বর্ণের। পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এম মালিক এই বড় ঘরটিতে এলেই মাছগুলোর সাথে কিছু সময় কাটান। বিশেষ করে কাচের দেয়ালে টোকা মারতে তার খুব ভালো লাগে। হঠাৎ আলোড়নে বিব্রত হয়ে পড়া মাছগুলোর দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করার দৃশ্যটা বড় চমৎকার ঠেকে গভর্নর মালিকের কাছে। তবে আজকের পরিস্থিতি ভিন্ন, গভর্নরের নিজেরই এখন মাথার ঠিক নেই।

চারপাশে বসে থাকা মন্ত্রীপরিষদের দিকে তিনি একবার চোখ বোলালেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন, ‘এখন কী করা যায় আপনারাই বলুন। প্রেসিডেন্টকে টেলিগ্রাম করলাম পরশুদিন, এখনো তো সেটার কোনো জবাব এলো না। জানি যে প্রেসিডেন্ট খুব ব্যস্ত মানুষ, তবুও…’

সুন্দরতম ফুটবলের বিজ্ঞাপণ

(১)
স্মৃতিচারণ বলবো, না ইতিহাস?

যে নামেই ডাকা হোক, প্রচ্ছদ দেখেই আন্দাজ করা যায় যে গ্যারি জেনকিন্সের এই রচনায় চরিত্রের অভাব নেই। কিন্তু কারা এই স্মৃতিচারণের চরিত্র?

অনেকেই। যেমন সাও পাওলোর বড়লোক পাড়ার অ্যাস্ট্রোটার্ফের কোণে দাঁড়িয়ে ফুটবলে লাথি মারতে থাকা বাচ্চাদের দিকে চেয়ে থাকা ওই বুড়ো। আজও ব্রাজিল ওই বুড়োকে চেনে ‘দা ক্যাপিটান’ নামে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত বইপত্র

আন্তর্জালের নানা বাংলাভাষী সমাবেশে নিয়মিত দেখতে পাই পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত বইপত্রের খোঁজ। অথচ ইচ্ছুক পাঠকেরা যখন খোঁজেন বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের ইতিহাস, সংবাদপত্রের কিছু প্রতিবেদন আর ফেসবুকের কিছু বিক্ষিপ্ত পোস্ট ছাড়া তেমন কিছু চট করে খুঁজে পাওয়া যায় না তখন।

ব্যক্তিগত কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বেশ কিছু পড়াশোনা করেছিলাম কয়েক বছর আগে, তখন প্রস্তুত করেছিলাম একটা গ্রন্থ তালিকা। আগ্রহী পাঠকদের কাজে লাগবে ভেবে সেই তালিকাই এখানে তুলে দেওয়া হলো। তবে আমার আগ্রহ মোটামুটি রাজনৈতিক ইতিহাসে সীমাবদ্ধ ছিলো বলে নৃতত্ত্ব সংক্রান্ত বইয়ের তালিকা আমি করিনি, বরং স্মৃতিকথা কিংবা ইতিহাসেই গুরুত্ব দিয়েছি অধিক। আশা করি, সেই খামতি কখনো পূরণ হবে ভবিষ্যতে।

অন্য এক কালো আগস্ট

(১)
গত সপ্তায় পাড়ার ছেলেদের সাথে ফুটবলে জিতে পাওয়া রঙ্গিন রুমালটা পকেটে নিয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যদি দেখেন ফুটবলের মাঠে আপনার কতকালের চেনা বন্ধুর বাড়ির সবাইকে পিটিয়ে হত্যা করছে আপনারই পরিচিত সব মানুষ, ক্যামন লাগবে তখন মনের ভেতরে? অথবা আপনার বাড়ির সামনেই নেহায়েত গোবেচারা এক পথচারীর মাথা অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে ইট দিয়ে থেতলে দেবে যখন আপনার অনেকদিনের চেনা কেউ? আট বছর বয়েসের আপনার ক্যামন লাগবে তখন?

নিজের সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা’র কারণে অজস্র বাঙালি পাঠকের চেনা নাম মীজানুর রহমানের কৃষ্ণ ষোলোই নামের স্মৃতিচারণ আমাদের দাঁড় করায় এ প্রশ্নগুলোর মুখে। মাওলা ব্রাদার্স প্রকাশনী মশিউল আলমের সম্পাদনায় ফেব্রুয়ারি ২০১৯-এ প্রকাশ করেছে ‘মীজানুর রহমান রচনাসমগ্র’, কমলালয়া কলকাতা আর ঢাকা পুরাণ-এর মতো আরো দুটো স্মৃতিকথার সাথে সেখানে জায়গা পেয়েছে কৃষ্ণ ষোলোই’ও।

বায়োস্কোপের পর্দায় / ০১

তিনটা সিনেমা দেখার টুকরো অভিজ্ঞতা একত্রে করে এই লেখা। এদের মাঝে সাধারণ যোগসূত্র আবিষ্কার করতে চাইলে উঠে আসবে ইতিহাসের প্রসঙ্গটা। দেশ আর কালের ভিন্নতা নিয়েও তিনটা সিনেমাই সত্য কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত।

দা টু পোপস [২০১৯,পরিচালকঃ ফার্নান্দো মেরিলেস]

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ধর্ম একটা হলেও, একই ধর্মাবলম্বীদের মাঝেও বিরোধ কম হয় না কখনোই। নানা মুনির মত, ধর্মের ক্ষেত্রেও বিবিধ রুপ নেয়। কিন্তু ক্যামন হয়, যদি পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানিত ধর্মগুরুদের মাঝেই মতের অমিল হয় আকাশ-পাতাল? ‘সিটি অফ গড’ খ্যাত পরিচালক ফার্নান্দো মেরিলেসের ‘দা টু পোপস’ সিনেমাটা দর্শকের ভাবনাকে দোলালো সেই চিন্তার সুতো ধরেই।

কয়েক টুকরো গ্যালিয়ানো

এদুয়ার্দো গ্যালিয়ানোকে নিয়ে আগেও লিখেছিলাম। দুর্দান্ত এক লেখক লোকটা। শব্দের ব্যবহারে তার চেয়ে পরিমিত গদ্যলেখক দেখিনি আর। ক্ষমতাসীনদের লেখা ইতিহাসকে ভেঙে চুরে গ্যালিয়ানো এমনভাবে তুলে ধরেন প্রাকৃতজনের বয়ান, সেটাকে কবিতা বললেই যেন মানায় বেশি।

গ্যালিয়ানোর আলোচিত বই মিররসঃ স্টোরিস অফ অলমোস্ট এভরিওয়ান থেকে নির্বাচিত কয়েকটা ভুক্তি এখানে অনুবাদের চেষ্টা করলাম। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, গ্যালিয়ানোর লেখার সৌন্দর্য্য আর কাব্যিকতার অনুবাদ আমার ল্যাংড়া কী-বোর্ডের সাধ্যতীত।

মার্কো পোলো
নিজের ভ্রমণকাহিনি শ্রুতিলিখনের সময়ে তিনি ছিলেন জেনোয়ার কারাগারে। কারাগারের অন্য বন্দীরা তার বলা সমস্ত গল্পই বিশ্বাস করতো। সাতাশ বছর ধরে প্রাচ্যের পথে পথে হেঁটে বেড়ানো মার্কো পোলোর অভিযানের কাহিনি শুনতে শুনতে প্রতিটি বন্দীই যেন ঘুরে আসতো কারাগারের বাইরে।

তিন বছর পরে, তিনি ভেনিস থেকে নিজের বই প্রকাশ করলেন। ‘প্রকাশ’ বলছি ঠিকই, কিন্তু ইউরোপে প্রিন্টিং প্রেস আসতে তখনো দেরি। হাতে লেখা কয়েকটা কপি ঘুরে বেড়ালো পরিচিত মন্ডলে। অল্প যে কিছু পাঠক মার্কো পোলো পেয়েছিলেন, তাদের কেউ সেই বইয়ের একটা অক্ষরও বিশ্বাস করেনি।

বাংলাদেশের দিন

 

সকালের ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন চারপাশ, দূরবীন চোখে দিয়েও সেতুর ওপারের ঢাকা শহরকে দেখা যাচ্ছে না। জেনারেল নাগরার মুখে তাই সামান্য বিরক্তির ভাব, সেটা দেখে কেউ ধারণা করতে পারবে না এই মুহূর্তে তার বুকের ভেতর কেমন সব অনুভূতির উথালপাতাল। 

জেনারেল নাগরাকে প্রাথমিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো টঙ্গী পর্যন্ত পৌঁছে অবস্থান নিতে। সেই দায়িত্ব পূরণ করার পরে হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ এসেছে ঢাকার পনেরো মাইলের মাঝে চলে যেতে। এরপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। সেনাপতি যদি সব দেখে সামনে এগিয়ে যেতে চান, তাহলে যেতে পারেন। ঠিক এ জায়গাতে দাঁড়িয়েই নাগরার বুকে আশার সাথে দৌড়াচ্ছে আশঙ্কার ঘোড়া। এখনো পুরো জেনারেল নন, মেজর জেনারেল তিনি। অথচ ঢাকা এখন তার হাতছোঁয়া দূরত্বে চলে এসেছে। ইতিহাসের অংশ হবার ললাটলিপি কি ভাগ্য তার জন্যেই রেখেছে? ঢাকার পতন কি তবে তার হাতেই হতে যাচ্ছে?

Powered by WordPress & Theme by Anders Norén

error: Content is protected !!