লেখালেখি

Author: সুহান রিজওয়ান Page 2 of 14

আন্না কারেনিনার জন্য কয়েকটি লাইন

পৃথিবীতে আর কোনো উপন্যাস নিয়ে বোধহয় তত আলোচনা হয়নি, যতটা হয়েছে লিও তলস্তয়ের ‘আন্না কারেনিনা’ নিয়ে। তলস্তয়েরই আরেক উপন্যাস ‘যুদ্ধ এবং শান্তি’তে চরিত্রের সমাহার আরো বেশি, তলস্তয়ের নৈপুণ্য সেখানে আরো বেশি রঙ নিয়ে প্রকাশিত; তবু যেন ‘আন্না কারেনিনা’ই আজও একটু বেশি চমৎকার মানুষের কাছে। গ্রেটা গার্বো থেকে একালের কেইরা নাইটলি পর্যন্ত পর্দায় রুপায়ন করতে চেয়েছে আন্না কারেনিনা-কে।

ঢাকার কাছে প্রেমপত্র

টিপ বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় একাকী দাঁড়িয়ে থাকা এমা স্টোনের চাইতেও আমার আকর্ষণীয় মনে হয় ঢাকা শহরকে।

সেই ঢাকা, কবে কোন মোগল আমলে হীরালাল তবলচিকে সাথে করে লখনৌ থেকে উড়ে আসা গওহরজান বাইজী যেখানে চুড়িদার পাজামা আর ঘুঙুরের ছন্দে নাচাতো নবাববাড়ি; সেই ঢাকা শহর, সাড়ে তিনশো বছরেরও আগে ট্যাভেরনিয়ার যেখানে অবাক দৃষ্টিতে দেখেছিলেন পাগলা নদীর দুধারে লম্বা টাওয়ারে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ধৃত ডাকাতদের কেটে নেওয়া মাথা; সেই ঢাকা, সাধকশ্রেষ্ঠ ব্রহ্মানন্দ গিরির মাথার ওপর দেবীর আদেশে উড়তে থাকা পাথর যেখানে এসে ঠাঁই পায় রমনার কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে; ইদানিং যানজট এবং অগণিত কুত্তার বাচ্চা নিয়েও সেই ঢাকা আমার কাছে চিরকালের এক প্রেম। যেহেতু এই শহর জানে আমার প্রথম সবকিছু, জয়েসের ডাবলিনার্স কিংবা পামুকের ইস্তানবুলের মতো তাকে নিয়ে একটা দীর্ঘ প্রেমপত্র লিখতে আমার হাত কেবলই নিশপিশ করে।

তিনটি অণু গল্প

পূর্বপরিচিত

ভাগ্যক্রমে দেখা হয়ে যাওয়ায় তারা আলিঙ্গন করলো একে অপরকে। ‘কতদিন দেখা হয়নি!’ বলে আক্ষেপ করলো দুজনেই। তারপর তারা খবর নিলো একে অন্যের, ফোন নাম্বার বিনিময় হলো, দেয়া হলো কফি খেতে দেখা হবার প্রতিশ্রুতিও।

শব্দে, ছন্দে, দৃশ্যে

০১.
মুক্তিযুদ্ধের পরে যাদের জন্ম, যুদ্ধকে অনুধাবন করতে হলে তারা ঠিক কীসের কাছে যান?

উত্তরে বলা যায় গ্রন্থাগারের ধুলো জমা বই, পূর্বসূরিদের স্মৃতিকথা, অথবা পত্রিকার প্রতিবেদনের কথা। কিন্তু এসব তো অনুসন্ধান তো তাত্ত্বিক; তথ্য আর পরিসংখ্যানের বাইরে মুক্তিযুদ্ধকে অনুভব করার যে আত্মিক যাত্রা করে বাংলাদেশের মানুষ, আরও নির্দিষ্ট করে বললে তরুণেরা; সেটার প্রাথমিক আগ্রহটা কে উস্কে দেয়?

প্রশ্নটার উত্তর খুঁজতে গিয়ে মনে পড়ে, মুহম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ পড়ে আমরা বন্ধুরা কী ভীষণ তাড়িত হয়েছিলাম শৈশবে। আজও ঈর্ষা করতে হয় সে পাঠককে, যিনি জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’ পড়তে বসবেন প্রথমবারের মতো আর শুনবেন ক্র্যাক প্লাটুনের রুমির সঙ্গে টম জোন্সের গ্রিন গ্রিন গ্রাস। যে পাঠক পড়তে বসবে হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্যামলছায়া’র মতো ছোটগল্প অথবা শাহীন আখতারের ‘তালাশ’ উপন্যাস; অনাগত কালেও সে নিশ্চিত আবিষ্কার করতে পারবে মুক্তিযুদ্ধ কতটা ত্যাগের আর কী ভীষণ কদর্যতার ছিল। পাঠকের সংবেদনশীল মনের ফাঁক গলে ঢুকে পড়ে এসব কাহিনী তাকে উপলব্ধি করায় এটাও যে, দানবের বিরুদ্ধে লড়াই জিতে আসাতেই যুদ্ধ ফুরিয়ে যায়নি; যুদ্ধ আরও অনেক নির্মম, সেটির ক্ষত একালের ঢাকা মহানগরীর রাজপথের বুকে ফুটে থাকা মেট্রো রেলের নির্মাণযজ্ঞের চাইতেও গভীর।

বইয়ের দোকানে লোকে যা বলে

মানুষ যে বিচিত্র, সম্ভবত বাজারে গেলেই সেটা সবচেয়ে ভালো বোঝা যায়। আর বইয়ের দোকানও যেহেতু আদতে একরকম বাজারই, সেখানেও বিচিত্র সব মানুষের দেখা মেলে। তেমন বিচিত্র কিছু মানুষের আরো বিচিত্র কিছু কথা নিয়ে জেন ক্যাম্পবেলের সম্পাদনায় একটা ছোট, হালকা বই পড়লাম। উইয়ার্ড থিংস কাস্টোমারস সে ইন বুকশপস। ‘চশমাটা বাড়িতে ফেলে এসেছি, আমাকে একটু প্রথম অধ্যায়টা পড়ে দেবেন?’ থেকে শুরু করে ‘বই ধরলে কি বৈদ্যুতিক শক লাগে?’; এমন সব মজাদার প্রশ্নে যে দুনিয়া জোড়া বইবিক্রেতারা অনবরত নাজেহাল হচ্ছেন ক্রেতাদের কাছে, ছোটো এই বইটা সে ব্যাপারটাই স্পষ্ট করলো। আর আজকের আলাপে থাকলো আলোচ্য বইটা থেকে অনূদিত কয়েকটা ঘটনা।

প্রচ্ছদ নিয়ে কয়েক লাইন

  • সম্ভাব্য প্রচ্ছদ নিয়ে কোনো রকম স্বপ্ন দেখা ছাড়াই যদি কোনো ঔপন্যাসিক তার উপন্যাস শেষ করে ফেলতে পারেন; তবে তিনি নিঃসন্দেহে প্রজ্ঞাবান, পুরোদস্তুর পরিণত একজন মানুষ। কিন্তু যা তাকে একদিন লেখক করে তুলেছিলো, ভেতরের সেই ছেলেমানুষি তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।
  • যখন সবচেয়ে প্রিয় বইগুলোকে স্মরণ করি, তাদের প্রচ্ছদটাও তখন আমাদের মনে ভেসে ওঠে।
  • প্রচ্ছদ দেখে যদি আরো বেশি পাঠক বই কেনে, আমাদের সেটা ভালো লাগে। এবং সেই পাঠকদের কথা মাথায় রেখে যে বইগুলো লেখা হয়, সমালোচকেরা যদি সেগুলোকে ধুয়ে দেন; সেটাও আমাদের ভালো লাগে।
  • প্রচ্ছদে যদি নায়ককে ফুটিয়ে তোলা হয় খুঁটিনাটি সহ; লেখক নয় শুধু, পাঠকের কল্পনাকেও সেটা অপমান করে।

কহেন লিওনার্ড কোহেন

গান ভালোবাসা মানুষের কাছে লিওনার্ড কোহেন যথেষ্ট পরিচিত এক নাম। পৃথিবীজোড়া লোকটার খ্যাতির মূল কারণ বোধহয় এটাই, যে ভূগোল আর সংস্কৃতির গণ্ডীতে আটকে না থেকেই একজন সংবেদনশীল মানুষ কোহেনের গানের মাঝে নিজেকে খুঁজে নিতে পারে। আহামরি কোনো গায়কী কিংবা চটুল যন্ত্রের কারিকুরিময় সুর নয়, কোহেনের গান সোজাসাপ্টা শব্দে ভর করে শ্রোতাকে বরং দেয় নৈরাশ্য; শ্রোতাকে সেটা বলে, পৃথিবীতে আরো অজস্র মানুষ তোমার মতোই বিপন্ন।

Page 2 of 14

Powered by WordPress & Theme by Anders Norén

error: Content is protected !!