শেষ পর্যন্ত ডোডো পাখিটা বললো, ‘সবাই জিতেছে! সবাইকেই পুরস্কার দিতে হবে!’ 

আজব দেশে অ্যালিস

১৯৯৭ সালের ৩রা জুন, সাহিত্যপ্রেমী একদল ভদ্রলোক জড়ো হয়েছিলেন লন্ডনের ব্রিটিশ লাইব্রেরির পড়ার ঘরটায়, কবি এনোক সোমেসকে স্বাগত জানাতে। সেই মানুষটি যে দেখা দেননি, সেটাও সম্ভবতঃ অপ্রত্যাশিত ছিলো না।

ওই ভদ্রলোকদের এভাবে একত্র হবার পেছনে একটা ইতিহাস ছিলো। একশো বছর আগে, নিজের ‘ছত্রাক’ নামক কবিতার বইটা মাত্র তিন কপি বিক্রি হওয়ায় কবি সোমেস একটা চুক্তি করেছিলেন শয়তানের সাথে। উচ্চাকাঙ্ক্ষী সোমেস নিজের আত্মার বদলে শয়তানের কাছে চেয়েছিলেন একশো বছর পরে ব্রিটিশ লাইব্রেরির পড়ার ঘরটায় ঘুরে আসার সুযোগ; দেখে আসতে চেয়েছিলেন, উত্তর-প্রজন্ম তাকে কীভাবে বিচার করছে। দুর্ভাগ্য সোমেসের, পরবর্তী প্রজন্ম তাকে বিচার করেনি, করেছে নিছক অবজ্ঞা। ফলে কবি দেখলেন, লাইব্রেরির বিশালাকার তালিকাগুলোর কোথাও তার বইয়ের উল্লেখ নেই, এবং সমকালের সাহিত্যের ইতিহাসে তার নাম ঠাঁই পেয়েছে কেবল একটা পাদটীকায়, যেখানে তাকে উল্লেখ করা হয়েছে ইংরেজ রম্য লেখক ম্যাক্স বিয়ারবম সৃষ্ট এক কাল্পনিক চরিত্র বলে। (অনুবাদকের টীকাঃ এনোক সোমেস প্রকৃতপক্ষেই ম্যাক্স বিয়ারবমের সৃষ্টি করা এক কাল্পনিক চরিত্র, আগ্রহীরা ঘুরে সতে পারেন এইখানে।) বেচারা এনোক সোমেস, ভবিষ্যতের পাঠকদের কাছে যে তার এমনকি ভূত পর্যন্ত অপরিচিত, নিজের সাহিত্যিক উচ্চাকাঙ্খার এই পরিণতি তার কেমন লেগেছিলো কে জানে!

সাহিত্য-সংক্রান্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষারা এরকম নানা পরিস্থিতির জন্ম দেয়। তার মাঝে একটা পরিস্থিতি সাধারণ লোকেদের কাছে গোপন হলেও বইবিক্রেতাদের কাছে বেশ পরিচিত। ব্যাপারটাকে ডাকা যায় ‘চিন্তাগ্রস্ত লেখক’ বলে।

চালাকি করে সাধারণ ক্রেতার মতো দোকানে ঢুকে চিন্তাগ্রস্ত লেখক তার স্বরচিত বইয়ের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়, বিক্রেতাদের তিরস্কার করতে করতে তিতিবিরক্ত বানিয়ে ফেলে ওই বই দোকানে না রাখায়, অথবা বইগুলোকে সাজিয়ে রাখে এমনভাবে- যাতে তাদের উল্লেখযোগ্য বলে বোধ হয়। কখনো কখনো, চিন্তাগ্রস্থ লেখক নিজেই এক দুই কপি বই কিনে। সেই স্নেহমাখা বিশ্বাস নিয়ে, যে তার দেখাদেখি অন্যরাও এই বই কিনবে।

সম্ভবত এই কুসংস্কারে উদ্দীপ্ত হয়েই, পুলিৎজার বিজয়ী সাংবাদিক ডেভিড ভিসে ১৯৯৯ সালে কিনে নিয়েছিলেন নিজের বই The Bureau and the Mole এর -অল্প কয়েকটি নয়- প্রায় বিশ হাজার কপি। কাজটাকে চিন্তাগ্রস্ত লেখকের বাড়াবাড়ি বলেও দেখা যায়, কিন্তু ভিসে নিজের আনন্দের জন্যে বইগুলো কিনেন নি, তিনি বরং উদারতার উদাহরণ হতে চেয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি চেয়েছিলেন নিজের রচনা পাঠকের কাছে আরও বড় আকারে নিয়ে যেতে, নিজের ওয়েবসাইটে পাঠকের জন্য লেখকের সাক্ষরকৃত কপি বিক্রির মাধ্যমে। যদিও ভিসে উন্মত্তের মতো কেনাকাটা শুরুর আগেই বইটা নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এর বেস্ট-সেলার তালিকায় ছিলো, বিশ হাজার কপির ধাক্কা সেটাকে নিঃসন্দেহে ওই জাতীয় আরো তালিকায় নিয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে ভিসে ঘোষণা দ্যানঃ আমার উদ্দেশ্য ছিলো The Bureau and the Mole বইটা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

সত্যি বলতে, বার্ন্স এন্ড নোবলের অনলাইন বইয়ের দোকানে বড়সড় ছাড় আর বিনামূল্যে পণ্য পৌঁছে দেয়া, নতুন বইকে ঘিরে বিক্রেতার বিশেষ মূল্যছাড় এবং হিসাব করা মোটা অঙ্কের লাভ; সব মিলিয়ে এযুগে বই নিয়ে ব্যবসার পেছনে লাভের যে পরিকল্পনারা থাকে, সেগুলো আসলে ধাঁধার চেয়েও জটিল! ভিসের কাজটাকে আমাদের তাই একটু তলিয়ে দেখা দরকার।

ডেভিড ভিসে’ই প্রথম লেখক নন, যিনি নিজের বই বিক্রি এবং পঠিত হবার জন্য এমন তরিকা উদ্ভাবন করেছেন। যদিও ‘বেস্ট-সেলার’ নামের শব্দবন্ধটা ক্যানসাস সিটির এক সংবাদপত্রে ১৮৮৯ সালে চালু হয়, কিন্তু এর ধারণাটা নিশ্চিত আমাদের মনে শেকড় গেড়েছে হাজার বছর আগেই। প্রথম শতাব্দীতেই কবি মার্শাল গর্ব করে বলতেন যে গোটা রোমের লোকে তার বইয়ের জন্য পাগল। আমরা জানি না তিনি কী এমন পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন, যার জন্য- তারই ভাষায়- ‘পাঠকেরা সারাদিন আমার পঙ্কতিগুলো গুণগুণায়, আর কিনে কিনে মজুত করে।

অত দূরে না গিয়ে যদি তাকাই নিকটবর্তী অতীতে, দেখবো, ওয়াল্ট হুইটম্যান তার Leaves of Grass বইয়ের প্রচারণা চালিয়েছিলেন কিছু অত্যুৎসাহী পাঠ-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে, যা ছিলো তার নিজেরই লেখা। জর্জ সিনেমন নিজের নতুন গোয়েন্দা উপন্যাসের বিজ্ঞাপণের জন্য এক দোকানের জানালার পাশে বসে টাইপ করতেন। ফে ওয়াল্ডেন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে নিজের সাম্প্রতিক উপন্যাসে তিনি ইতালিয়ান গহনা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান Bulgari নিয়ে ভালো ভালো কথা বলবেন, অবশ্যই উল্লেখযোগ্য টাকার বিনিময়ে। অপেক্ষাগারে ঝুলিয়ে রাখা সাংবাদিকের কোটের পকেটে নিজের প্রথম বইয়ের কপি ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন তরুণ হোর্হে লুই বোর্হেস। ১৯১৩ সালে এডওয়ার্ড গারনেটকে পাঠানো চিঠিতে ডি এইচ লরেন্স লিখেছিলেনঃ ‘হ্যামলেট আর ইডিপাস লিখেও এযুগে ১০০ কপির বেশি বিক্রি করা যাবে না, বিজ্ঞাপণ না করলে।

অথচ ভিসের কাজের ব্যাপ্তির সাথে তুলনায় পুরোনো দিনের ওইসব বিজ্ঞাপনী তরিকাকে মনে হয় শিশুতোষ বলে। যতটা আপত্তিকর মনে হয় তার চাইতে এরা হাসায় বেশি। আর যতটা হাসায়, ততটা কাজ করে না। আমাদের সমকালে, যখন প্রকাশকেরা আর ধাত্রীর মতো আগ্রহ নিয়ে বইয়ের জন্ম দেয় না বরং তারা হয়ে উঠেছে অন্য সব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকের মতোই, একই ছাদের নিচে থেকে যারা ব্যবসায়িক লাভের জন্য লড়ছে; যখন লেখকেরা আর লোকচক্ষুর অন্তরালে নীরবে সরস্বতীর সাধনা করেন না (টমাস পিঞ্চন ঘরানার অল্প কজন ব্যতিক্রম বাদে), বরং সার্কাসের দড়াবাজিকরের মতোই দেশের এমাথা-ওমাথা ঘুরে বেড়ান আর টিভিপর্দায় কিংবা বইয়ের দোকানে কোটা পূরণ করেন বক্তৃতাবাজির; যখন হাজারে হাজারে বই, যেমনটা কাফকা চেয়েছিলেন, ‘কুঠারের মতো আমাদের ভেতরের জমাট বরফ সমুদ্রে চিড় ধরায়’ না বরং মনগড়া কথা দিয়ে জনসাধারণকে তুষ্ট করতে চায় (The Bureau and the Mole এর মতো); এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে কেন বইয়ের বাজারে- ভিসের ভাষায়- ‘সৃজনশীল বিপণন পদ্ধতি’ দেখে আমরা অবাক হবো?

অতীত কালে, লেখকেরা নাকি লেখার টেবিলের সামনে সাজিয়ে রাখতেন হাস্যোজ্জ্বল কোনো মড়ার খুলি; নিজেদের মনে করাতে যে তাদের শ্রমের একমাত্র নিশ্চিত পুরস্কার হলো মৃত্যু। আমাদের কালে, খুলির বদলে লেখকের সামনে থাকে কম্পিউটারের আলোকিত পর্দা, যা দিয়ে সে চোখ রাখতে পারে কোনো বেস্ট-সেলার তালিকায়; আবিষ্কার করতে পারে, যে সেও বরণ করছে বেচারা এনোক সোমেসের ভাগ্য; দেখতে পারে, যে তার পরিশ্রমী রচনা ঠাঁই পায়নি সর্বাধিক বিক্রীত বইয়ের সারিতে। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে, তবে তারা নিশ্চয়ই উদাহরণ হতে পারে না।

২০০০ সালে তাই আমাজন ডট কমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনৈক জেফ বিজোস- যদি উপহাস না হয়, তবে উদারতা দেখাতেই-এগিয়ে এলেন এই অবহেলিত লেখককূলকে রক্ষা করতে। আমাজন ডট কমের বেস্ট-সেলার তালিকা আজ আর বিশটি মাত্র নামে সীমাবদ্ধ নয়, বিক্রির পরিমাণ অনুযায়ী সেই তালিকায় এখন ধারণ করছে তিরিশ লক্ষ বই; পদ্ধতিটাকে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক বলে আখ্যা দেয়া ছাড়া উপায় নেই!

প্রযুক্তির এই উদারতায় লেখকের টেবিলে রাখা ওই স্মারকটি এখন হয়ে উঠেছে আত্মগর্বের উৎস। আপনি একটা বই লিখেছেন, আপনার ধারণা সেটা আমাজন ডট কমের তিরিশ লাখ বইয়ের তালিকায় আছে, আপনি তখন বইয়ের নাম লিখে খোঁজ করবেন… ব্যাস, হয়ে গেল! সমস্ত বইয়ের মাঝে আপনার বইয়ের একদম নিখুঁত অবস্থানটা আপনি জেনে যাবেন এবার। একটু ভেবে দেখুন, টাইটানিকের লাইফ বোটে উঠে পড়া সর্বশেষ যাত্রীটির মতো, তালিকার তিরিশ- লক্ষতম স্থানে থাকা লেখকটি এবার কেমন হাসি দেবেন তালিকার তিরিশ-লক্ষ-এক নাম্বারে থাকা সেই লেখকের দিকে, যিনি বিস্মৃত হয়েছেন এনোক সোমেসের মতো!

তালিকায় কোন লেখকের জায়গা হবে আর কার জায়গা হবে না, ভাগ্যের চাইতেও বেশি সেটা নির্ভর করে অদ্ভুত কিছু গাণিতিক নিয়মের ওপর। এবং, ১৮৯৫ সালে ‘দা বুকম্যান’ নামের নামের পত্রিকায় প্রথমবারের মতো বেস্ট-সেলার তালিকা আবির্ভাবের পর থেকেই, এ ধরনের তালিকায় এমন সব বই দেখা যায়, যাদের উপস্থিতির কারণ স্বয়ং ইবলিশেরও অজানা।

তবে অবশ্যই, যদি এই তালিকায় নিজের নাম তুলতে চান, তবে সেই সন্তুষ্টি কিনে নেবার রাস্তাও আপনার আছে। যেমন ধরুন, আপনার সমস্ত বন্ধুকে একটা নির্দিষ্ট দিন বিকালে আপনার বইটা কিনতে বললেন। সেক্ষেত্রে মোটামুটি নিশ্চিতভাবে বলা যায়, একটা নির্দিষ্ট ঘন্টায় আপনার নাম জ্বলজ্বল করবে আমাজন ডট কমের তালিকায়। তবে যারা এ ধরনের কাজ করতে চান না, তাদের জন্য উপকারী হবে বছর দুয়েক আগের বেস্ট-সেলার তালিকায় জ্বলতে থাকা নামগুলোর ওপর একবার চোখ বুলিয়ে আসা। অল্পকিছু ব্যতিক্রম ছাড়া তাদের আপনি চিনতেই পারবে না। এসব নন্দলাল আর গৌরীসেনরা কে ভাই? যাদের বই বিক্রি হয়েছে হাজারে হাজারে, বেস্ট-সেলার তালিকায় যাদের অবস্থান ছিলো ধ্রুবতারার মতো, তারা আজ কোথায় নিশ্চিহ্ন হলো?

কিন্তু ভিসে বা বেজোসের মতো মানুষেরা নন, সত্যিকারের হেঁয়ালির জন্ম আসলে আমরাই দেই, পাঠকেরা। জর্জ বার্নাড শ’এর সাথে নাটকের সত্ত্ব নিয়ে দরকষাকষি করতে গিয়ে ধনকুবের স্যাম গোল্ডউইন বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন খ্যাতনামা ওই নাট্যকারের চাহিদা শুনে। বার্নাড শ উত্তর দিয়েছিলেন, ‘সমসাটা কী জানেন মিস্টার গোল্ডউইন? আপনি শিল্পের কথাটাই চিন্তা করছেন, কিন্তু আমি চিন্তা করছি টাকা নিয়ে।’

গোল্ডঊইনের মতোই, আমরা চাই যে আমাদের সমস্ত কর্মকান্ডের পেছনে যেন একটা আর্থিক লাভ থাকে। তবুও আমরা চাই বুদ্ধিবৃত্তিক কাজকর্মগুলো এইসব দুনিয়াবি ব্যাপারের বাইরে থাকুক। আমরা একমত যে বইও কেনা-বেচা হতে পারে, অন্য সমস্ত শিল্পপণ্যের মতোই সেটার ওপরেও কর বসানো যেতে পারে; তবু আমরা আহত বোধ করি যখন আমাদের অশ্লীল ব্যবসা-বুদ্ধিগুলো গল্প-কবিতার বইতে কাজে লাগানো হয়। আমরা চাই একদম সাম্প্রতিক বেস্ট-সেলারদের নিয়ে আলাপ করতে, ‘বইটা কতদিন বেঁচে থাকবে’ সেই নিয়ে মত প্রকাশ করতে; কিন্তু আমরা আশাহত হই যখন আবিষ্কার করি যে অধিকাংশ বইয়ের অমরত্ব আসলে ডিমের চাইতে অধিক স্থায়ী নয়। জেফ বেজোসের পৃথিবী কিংবা ভিসে’র কাহিনি তাই আসলে একটা শিক্ষামূলক গল্প, যার সারকথা জ্বলজল করছে বহু আগে লেখা হিলারি বেলোকের সেই কবিতায় ‘যখন মারা যাবো, আশা করি আমার সম্পর্কে বলা হবে এমনটাইঃ তার পাপগুলো ছিলো রক্তাক্ত, কিন্তু লোকে তার বইগুলো পড়েছে।’

কে জানে, হয়তো এইসব সংখ্যাতাত্ত্বিক বেচাবিক্রির মানে জিজ্ঞেস করাটাই অসভ্যতা, বইয়ের তালিকা মানেই তো একটা চমৎকার জিনিস। কাজেই বেস্ট-সেলিং লেখকের তালিকার উনত্রিশ-লক্ষ-নিরানব্বই-হাজার-নয়শো-নিরানব্বই নম্বরে অবস্থান করা কোনো লেখক, যিনি মুখে হাসি নিয়ে আমাদের কোনো ভোজসভায় বলতে এসেছিলেন, ‘জানেন, ‘ছত্রাক’ নামে আমার একটা কবিতার বই সাতকপি বিক্রি হয়েছে!’; তাকে মুহুর্তে বাতিল করে দেওয়াটা খুবই ছোটোলোকের মতো কাজ।

কারণ সাহিত্যের যাত্রায় খুব প্রয়োজন লেখকের ওই সামান্য আত্মগরিমাটা। যেমনটা বলেছিলেন টমাস লাভ পিককের উনবিংশ শতাব্দীর উপন্যাস Nightmare Abbey এর নায়কঃ ‘সাত কপি বিক্রি হয়েছে। সাত একটা রহস্যময় সংখ্যা, সৌভাগ্যের প্রতীক। এবার আমি ওই সাতজন ক্রেতাকে খুঁজে বের করবো; তারা হবেন সাতটা মোমদানি, যাদের মাধ্যমে আমি আলোকিত করবো সারা দুনিয়া।’

লোভকে গুণ বলে গণ্য করবার আজকের যুগে, এমন বিনয়ী উচ্চাকাঙ্খার সাথে তর্ক করবার দুঃসাহস কার আছে?

 

[ আলবার্তো ম্যাঙ্গুয়েলের A Reader On Reading সংকলনের Honoring Enoch Soames প্রবন্ধের অনুবাদ ]