কথাসাহিত্যের বন্দনা

পাঁচ বছর বয়েসে, বলিভিয়ার কোচাবাম্বার দে লা স্যালে একাডেমিতে, ব্রাদার হুস্তিনিয়ানোর কাছে আমি পড়তে শিখি। আমার জীবনে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। প্রায় সত্তর বছর পরেও স্পষ্ট মনে করতে পারি বইয়ের পাতার শব্দকে মনের ভেতরে ছবি করে তোলার সেই যাদু কীভাবে আমার জীবনকে ভরিয়ে দিয়েছে; সময়ের আর ভূগোলের দেয়াল ভেঙে কীভাবে সেটা আমাকে ক্যাপ্টেন নিমোর সাথে সাগরতলে বিশ হাজার লিগ ঘুরিয়ে এনেছে; এথোস, পর্থোস, আরামিস আর দাঁরতানিয়ার সাথে কীভাবে সেটা আমাকে যুদ্ধে নামিয়েছে রাণীর বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রিশেল্যুর বিপক্ষে; মারিউসের নিশ্চল দেহ পিঠে নেয়া জাঁ ভালজাঁর সাথে কীভাবে সেটা আমায় হোঁচট খাইয়েছে প্যারিসের নর্দমায়।

পড়তে শেখা আমার জীবনের স্বপ্নটাকে বদলে দিয়েছিলো। সেটা, আমার জীবনকেই করে তুলেছিলো স্বপ্ন আর পৃথিবীকে নিয়ে এসেছিলো আমার শৈশবের দখলে। মা বলতো, যে শৈশবে আমি যে সব গল্প লিখেছি সেগুলো ছিলো আমার নিজের পড়া গল্পগুলোরই টেনে নেওয়া কাহিনি, কারণ ওই গল্পগুলোর শেষ হয়ে যাওয়াটা আমি মেনে নিতে পারিনি অথবা সেগুলোর সমাপ্তি আমার পছন্দ হয়নি। আজ ভাবি, হয়তো সারাজীবন ধরে না বুঝে আমি সেই কাজটাই করে গেছি। বড়ো হয়েছি, বুড়ো হয়েছি আমি, কিন্তু লিখে গেছি সেইসব গল্পই, যা শুনে শৈশবে আমি উদ্দীপিত হয়ে উঠতাম…

… সাহিত্যকে ধন্যবাদ, আমাদের চেতনাকে গড়ে তোলার জন্য, আমাদের ইচ্ছাগুলোকে জাগিয়ে দেয়ার জন্য, এবং বাস্তবতা থেকে পালিয়ে অনিন্দ্যসুন্দর কোনো কল্পনার জগতে অভিযান চালাবার সুযোগ করে দিয়ে আমাদের অস্তিত্বকে ভরাট করে তোলার জন্য। গল্পকথকেরা যখন তাদের গল্পগুলোকে মানবিক রুপ দেন, সভ্যতাকে তখন আরেকটু কম নৃশংস বলে বোধ হয়। যে সব ভালো বই আমরা পড়েছি, সেগুলো ছাড়া আমাদের অবস্থা হতো আজকের চেয়েও খারাপ। আমরা হতাম আরো প্রথাগত, আরো বাধ্যগত; আর সমালোচনার যে তীক্ষ্ণ মন আমাদের সমস্ত প্রগতির মূলে, সেটাও তখন একেবারেই থাকতো না। লেখার মতোই, পড়ার কাজটাও জীবনের অপ্রাপ্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। আমরা যখন দেখি যে জীবনে আমরা যা পাইনি, সেটা গল্পের ভেতরে আছে; কেউ বলে দেয় না, কিন্তু পাঠক তখন জেনে যায় যে মানুষের সভ্যতার দৃশ্যমান উৎকর্ষটা আসলে চূড়ান্ত নয়, আরো উন্নতির অবকাশ সেখানে আছে। একটার বেশি জীবন আমাদের নেই, কিন্তু আমরা গল্প বানাই কারণ আমরা চাই অজস্র জীবনকে যাপন করতে।

কোনো অত্যাচারী শাসক, কিংবা কোনো আদর্শ কিংবা কোনো ধর্মমত যখন আমাদের দাবিয়ে রাখতে চায়; তখন আমরা গল্প ছাড়া বুঝতে পারি না যে জীবনকে বাঁচার যোগ্য করে তুলতে হলে কতটা স্বাধীনতা প্রয়োজন। সাহিত্য কেবল সৌন্দর্য্য আর সুখের যোগান দেয় না, সাহিত্য কথা বলে নিপীড়নের বিরুদ্ধেও। এই ধারণায় বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকলে আমাদের তাকানো উচিৎ সেইসব স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার দিকে, যারা দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত নিজের নাগরিকদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। আমরা দেখবো সাহিত্যকে দমানোর জন্য তারা কায়েম করে সেন্সরশিপ, লেখকদের উপরে নজর রাখতে রাখতে তারা চোখ ব্যথা করে ফেলে। কারণ তারা জানে, বইয়ের ভেতর দিয়ে কল্পনাকে প্রশ্রয় দেয়ার ঝুঁকিটা কী; তারা জানে, বাস্তবের সাথে নিজের জীবনের তুলনা টেনে পাঠক ক্যামন বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারে। যখন লেখকেরা গল্প বলেন; চেয়ে হোক বা না-চেয়ে, জেনে হোক বা না-জেনে; তারা তখন ছড়িয়ে দ্যান অসন্তোষ, প্রকাশ করে ফেলেন যে আমাদের দৈনন্দিন পৃথিবীটা কত জঘন্য আর কল্পনার পৃথিবীটা কত সমৃদ্ধ। এবং এই সত্যটা একবার যদি পাঠকের সংবেদনে আর চেতনায় শেকড় গেড়ে বসে, তখন নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণ করাটা হয়ে পড়ে শক্ত; জেল কিংবা জুলুমের ভয় দেখিয়েও তখন আর তাদের কাছে মিথ্যাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা যায় না।

MVL
মারিও ভার্গাস ইয়োসা (ছবি সৌজন্যঃ দা প্যারিস রিভিউ)

ভাষা, বিশ্বাস, অভ্যাস, প্রথা আর সংস্কারের যে বিভেদ; সৎ কথাসাহিত্য সেটা দূর করে মানুষের মাঝে সেতু গড়ে তোলে সকলকে একই ভাবে আনন্দ, কষ্ট আর বিস্ময় দিয়ে। যখন বিশাল সেই সাদা তিমিটা ক্যাপ্টেন আহাবকে ডুবিয়ে দেয় সাগরতলে; টোকিও, লিমা, কিংবা টিম্বাকটুতে বসে থাকা পাঠকের হৃদয় তখন একইভাবে কাঁপে। জ্যাকেট আর টাই, জাজাবা, কিমোনো কিংবা বোম্বোচা, যা-ই তার পরনে থাকুক না ক্যানো; বুদ্ধ, কনফুসিয়াস, খ্রিষ্ট, আল্লাহ কিংবা অন্য যার ওপরেই তার ঈমান থাকুক না ক্যানো, সমস্ত পাঠক একইভাবে আলোড়িত হয় যখন এমা বোভারি পান করে আর্সেনিক, যখন আন্না কারেনিনা নিজেকে ছুঁড়ে দেয় ট্রেন লাইনের ওপর, যখন জুলিয়ান সোরেল উঠে পড়ে ফাঁসির মঞ্চে, যখন বোর্হেসের ‘দক্ষিণে’ গল্পের সেই শহুরে ডাক্তার হুয়ান দালমান তাঁবু থেকে বেরিয়ে এসে মুখোমুখি হয় ডাকাতের ছুরির, কিংবা যখন পাঠক বুঝে ফেলে যে পেদ্রো পারামোর সেই কোমোলা নামের গ্রামটার সমস্ত অধিবাসী আসলে মৃত। বিচিত্র সব মানুষের মাঝেও সাহিত্য গড়ে তোলে ভাতৃত্ববোধ, আর গুঁড়িয়ে দেয় আদর্শ, ধর্ম, ভাষা, অজ্ঞানতা আর মূর্খতার সমস্ত দেয়ালকে। …

… ছেলেবেলায় আমি জানতাম যে আমার বাবা মৃত, তিনি স্বর্গে আছেন। হঠাৎই এক সকালে মা জানালেন যে আমার বাবা আসলে জীবিত, এবং সেদিন থেকেই আমরা লিমায় তার সাথে থাকবো। আজও আমি সেই দিনটা ভুলতে পারি না, আমার বয়স তখন এগারো, এবং সে মুহুর্ত থেকে আমার সমস্ত দুনিয়াটা বদলে গিয়েছিলো। সেদিন থেকেই আমি হারিয়ে ফেলি আমার নিষ্পাপ শৈশব, এবং আবিষ্কার করি একাকীত্ব, কর্তৃত্ববাদ, আর ভয়। আমার মুক্তি ছিলো বই পড়ায়। চমৎকার সব বই পড়তে পড়তে আমি পালাতাম সেইসব দুনিয়ায়, যেখানে জীবন ছিলো মহৎ আর একটার পর একটা টানটান উত্তেজনার অভিযানে ভরপুর। নিজেকে তখন আমার ফের সুখী আর স্বাধীন বলে মনে হতো।

মুক্তির জন্য আমার আরো একটা রাস্তা ছিলো। লেখা। তবে এমন গোপনে আমি লেখালেখির কাজটা করতাম, যেন ওটা নিষিদ্ধ কোনো কাজ; যেন ওর চেয়ে খারাপ আর কিছু নেই। আমার কাছে তখন সাহিত্যের মানে আর কেবল বিনোদন ছিলো না, সেটা তখন হয়ে উঠেছিলো প্রতিরোধের, প্রতিবাদের, বিদ্রোহের উপায়; আমার বেঁচে থাকার কারণ। সেই থেকে আজও, যখনই আমি দুঃখে ভেঙে পড়ি আর হতাশায় নুয়ে যাই, শরীর আর মনকে তখন আমি নিয়োজিত করি গল্প বলার কাজে; ওটাই আমার কাছে গুহার শেষ প্রান্তে আলোর চিহ্ন, ভেঙে পড়া জাহাজের নাবিককে তীরে নিয়ে যাবার টুকরো কাঠ।

… সাহিত্য হলো জীবনের সেই অনুকরণ, যেটা জীবনকে আরেকটু ভালো মতো বুঝতে আমাদের সাহায্য করে। যেখানে আমরা জন্মাই, ইতস্তত ঘুরি জনম ভর, আর মারা যাই; সেই গোলকধাঁধায় নিজেদের অবস্থান আমরা বুঝে নিতে পারি সাহিত্য দিয়ে। জীবন আমাদের ল্যাং মারে আর হতাশা দেয়। সেগুলোর ক্ষতিপুরণ হিসেবে সাহিত্য আমাদের দেয় অস্তিত্বের জটিল সব হায়ারোগ্লিফিক প্রশ্নকে অনুবাদের সুযোগ। একক বা সামষ্টিক লক্ষ্য, হৃদয়, ইতিহাসের অর্থ বা অর্থহীনতা; এসব নিয়ে অধিকাংশ মানুষ যখন নিশ্চয়তার চেয়ে বেশি ভোগে সংশয়তেই, সাহিত্য তখন তাকে দেয় সামনে বা পেছন থেকে ওই ধারণাগুলোকে যাচাই করা জ্ঞান, অন্ততঃ কিছুটা হলেও।

পূর্বপুরুষদের কথা চিন্তা করতে গেলে আমি সবসময় অবাক হয়ে যাই। যখন তাদের মাত্র পৃথক করা যায় পশুদের থেকে, যখন অন্যের সাথে ভাব বিনিময়ের জন্য তাদের ভাষা সবে জন্ম নিয়েছে; আগুনের পাশে বসে গুহায় রাত্রিযাপনের সময় বজ্রপাত, বিদ্যুৎ চমক আর পশুর গর্জনের মাঝে সেই আদিম মানুষেরা তখন শুরু করেছিলেন গল্প বানানো আর গল্প বর্ণনার কাজটা। ইতিহাসের সেই মুহুর্তটাই নির্ধারণ করে দিয়েছিলো আমাদের ভাগ্য; কারণ গল্পকথকের স্বর আর কল্পনার আস্থা রেখে সেই প্রাচীন মানুষেরাই সূচনা করেছিলো সভ্যতার, যার দীর্ঘ পরিক্রমায় আমরা ক্রমশ হয়ে উঠেছি মানবিক, গোত্র ভেঙে জন্ম দিয়েছি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের, উদ্ভাবন করেছি বিজ্ঞান-শিল্পকলা-আইন, নির্ণয় করেছি প্রকৃতি, মহাশূন্য আর মানবদেহের গভীরতম সব সূত্র, যাত্রা করেছি তারার দেশে। আদিম সেই মানুষেরা, যাদের চারপাশে ছিলো ছিলো কেবল রহস্য আর অজানা সব ভয়ংকর, যাদের কাছে জীবনের অর্থ ছিলো কেবল খাওয়া, বিপদ থেকে পালিয়ে বেড়ানো, শিকার করা, আর সন্তান জন্মদান; গল্প, পুরাণ আর কিংবদন্তীগুলো তাদের কানে প্রথমবারের মতো নিশ্চয়ই এসেছিলো সুরের মতো সুধা হয়ে। নিশ্চয়ই, তখন থেকেই শুরু হয়েছিলো তাদের যৌথভাবে স্বপ্ন দেখার পালা। তারপর থেকে শুধু বাঁচার জন্য কিংবা শুধু কাজ করার জন্য তাদের আর আটকে রাখা যায়নি, তাদের জীবন তখন হয়ে উঠেছে স্বপ্ন, আনন্দ, কল্পনা আর বিদ্রোহের। তারা তখন নিজ গন্ডী ভেঙে অন্তর্গত কল্পনাকে করে তুলেছে বাস্তব আর সমাধান করেছে চারপাশের রহস্যময়তার।

চলমান এই প্রক্রিয়াটা আরো সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে লেখার রীতি আবিষ্কারের পর; শোনার পাশাপাশি গল্প তখন হয়ে উঠলো পড়ার’ও, এবং সাহিত্য হয়ে উঠলো চিরস্থায়ী।

নতুন দিনের ছেলেমেয়েদের মরমে পশে যাবার আগ পর্যন্ত তাই আমাদের বারবার বকে যেতে হবে সেই কথাইঃ কথাসাহিত্য শুধু আনন্দ দানের মাধ্যম নয়, নিজের মানসকে আরও শাণিত করবার জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক অভিযান বলেও এটাকে ছোট করে রাখা যাবে না; কথসাহিত্য দরকার সভ্যতাকে চালিয়ে নেবার জন্যে, কথাসাহিত্য অপরিহার্য মানুষের ভেতরের সমস্ত সুন্দরকে নতুন করে বলবার জন্যে আর বাঁচিয়ে রাখার জন্য। কথাসাহিত্য প্রয়োজন যাতে করে বিশেষজ্ঞদের এই যুগে সমস্ত জেনেও আমরা ভুলে না যাই পরিপার্শ্বকে, যাতে করে আমাদের দাসত্বের জন্য যে যন্ত্রের সৃষ্টি  আমরা যেন তার ভৃত্য না হয়ে পড়ি। এবং সাহিত্য প্রয়োজন, কারণ সেটা ছাড়া দুনিয়া হয়ে পড়বে এমন যান্ত্রিক যে সেটাকে আর মানুষের পৃথিবী বলে চিহ্নিত করা যাবে না, কারণ সেটা ছাড়া দুনিয়া হয়ে পড়বে এমন বিবর্ণ যে মানুষ আর স্বপ্ন দেখবে না নিজেকে অন্য কিছু করে তোলার।

গুহা থেকে গগনচুম্বী দালান, মুগুর থেকে আণবিক বোমা, পুনরাবৃত্তির গোষ্ঠী জীবন থেকে বিশ্বায়নের যুগ পর্যন্ত সাহিত্য কেবলই বাড়িয়ে গেছে মানুষের অভিজ্ঞতার ঝুলি; অলসতা, অন্তর্গত লোভ আর হাল-ছেড়ে-দেওয়া মানসিকতার কাছে সেটা আমাদের হেরে যেতে দেয়নি। কল্পনার জগতে নাড়া দিয়ে সেটা আমাদের দিয়েছে এমন সব অভিযান আর অনুভূতির স্বাদ, বাস্তবের জীবন আমাদের যা দেয়নি। মিথ্যা সব গল্প দিয়ে আমাদের জীবনকে আলোড়িত করবার জন্য সাহিত্যকে তাই ধন্যবাদ দিতেই হবে। গল্পের সেই মিথ্যাগুলো সত্য হয়ে ওঠে আমাদের মাধ্যমে, যখন আমরা, পাঠকেরা, বদলে যাওয়া এক দৃষ্টিতে আমাদের গড়পড়তা জীবনটাকে চিরকালের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ করা শিখে যাই। যাদুর মতোই, সাহিত্য আমাদের ভেতরে সেই আশা জাগায় যা আমাদের ছিলো না, আমাদের সে তা-ই করে তোলে যা আমরা নই। পাগান দেবতার মতোই, আমাদের তখন বোধ হয়, একইসাথে আমরা নশ্বর ও অমর। এই বোধ আমাদের মধ্যে জাগিয়ে তোলে মাথা-নত-না-করা আর বিদ্রোহের সেই মনোভাব, মানব সমাজে বিদ্যমান নৃশংসতা আর অবিচারকে আরো কমিয়ে আনতে কাজ করে যায়। কমিয়ে আনতে অবশ্য, অবসান ঘটাতে নয়। কারণ, সৌভাগ্যক্রমে, আমাদের গল্পগুলো চিরকালই অসমাপ্ত গল্প।

সে জন্যেই আমাদের চালু রাখতে হবে স্বপ্ন দেখা, পড়া এবং লেখা। কারণ নশ্বরতাকে পরাজিত করতে, সময়ের ক্ষয়কে জয় করতে, এবং অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে, সাহিত্যই মানুষের শ্রেষ্ঠ অবলম্বন।

[২০১০ সালের ডিসেম্বরে স্টকহোমে প্রদত্ত মারিও ভার্গাস ইয়োসার নোবেল ভাষণ In Praise of Reading and Fiction এর একাংশের অনুবাদ।]