১২ জানুয়ারি, ২০২১
টিপ বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে থাকা এমা স্টোনের চাইতে সুন্দর আর কী আছে পৃথিবীতে?

রাতের ঢাকা শহর।

সেই ঢাকা, কবে কোন মোগল আমলে হীরালাল তবলচিকে সাথে করে লখনৌ থেকে উড়ে আসা গওহরজান বাইজী যেখানে চুড়িদার পাজামা আর ঘুঙুরের ছন্দে নাচাতো নবাববাড়ি; সেই ঢাকা, সাধকশ্রেষ্ঠ ব্রহ্মানন্দ গিরির মাথার ওপর দেবীর আদেশে উড়তে থাকা পাথর যেখানে এসে ঠাঁই পায় রমনার কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে; সেই ঢাকা, যেখানে বুড়িগঙ্গার নিচে হারিয়ে যাওয়া কোনো চর থেকে আজও বর্ষার রাতে চিৎকার করে ডেকে ওঠে কালে জমজম নামের কামান; আজ  কতকাল পরেও সেই ঢাকা শহর এইসব হালকা শীতের রাতে সোডিয়াম বাতির রিমিক্স আলোয় বহু গাড়ি এবং অগণিত কুত্তার বাচ্চা নিয়েও সুন্দর হয়ে ওঠে এমা স্টোনের চাইতে।

সেখানে এটিএমের পাহারায় নিয়োজিত এবং তোয়ালে বিছিয়ে ঘুমের অপেক্ষায় থাকা বুইড়া মামায় বুট পায়ে অকারণ হাঁটাহাঁটি করে রাত গভীর হবার আগেই নিজের কর্মদক্ষতা প্রমাণে; সেখানে ছক কাটার পরোয়া না করে স্যান্ডেল দিয়ে সীমানা টেনে ব্যাডমিন্টন খেলে সারাটা দিন ট্রাক থেকে মাল খালাস করা মাতারির পোলারা; সেখানে বুকের মাঝে শ্লেষা জড়ানো স্বরে লাইটপোস্টের নিচে বৃদ্ধা ফকিরের কোরআন পাঠ; সেখানে কয়েকদিনের পুরানো তেলেভাজার ঘ্রাণে মৌ মৌ গলির ওপরে বিদ্যুত, ইন্টারনেট আর ফোনের লাইনের মাঝে বসে ওম পোহায় অপুষ্টিতে ভোগা আকাশ।

শুধু ওই আকাশকে দেখেই মনে পড়ে, বেঁচে থাকার জন্য বার্ডম্যানকে যে ট্যাক্স দিতে হয়, তার নাম নিঃসঙ্গতা।

কতদিন কতকালের মানুষের ইতিহাস মুছে গেলো এমা স্টোনের ন্যাপকিন হতে, কিন্তু কালচে ওই আকাশ আজও অমলিন।