২৩ মার্চ, ২০২১

শিকাগোর সাত নয়, সরকিনের ট্রায়ালে এবার অগুনতি বাংলাদেশি। শেষ দৃশ্যে এডি রেডম্যান কিংবা টম হেইডেন উঠে দাঁড়িয়ে শল্লার পর রামু, নাসিরনগর প্রভৃতি নাম একের পর এক বলা শুরু করলে আবেগে উদ্বেলিত জনতা আরেকটু হলে তালি মেরে বসে।

তালিটা মারতে গিয়েই তবে মুশফিক ক্যাচ ফেললো? নাকি লোকের নজর সরাতে? উত্তর দেয়া মুশকিল, কোথাও সাকিব কোথায় পাপন কে বলে তা বহুদূর; বিসিবির মাঝেই স্র্বর্গ নরক, বিসিবি’ই সুরাসুর।

আরেকটু পেহনে ফিরলে কালোকে ভালো বলে আলো হলো চক্ষুশূল, তারপর এক গামলা ওটিটির মাঝে একমুঠো অলাতচক্রের ভ্যাক্সিন।

এমনিতে অগ্নিঝরা মার্চে বীর বাঙালি ভ্যাক্সিন ছাড়াই শাহেদদের ধন্যবাদ জানিয়ে গেছে, আপাতত এরা হন্য হয়ে কোভিড রুখতে মানববন্ধন করে।

রাস্তাঘাটে সমাবেশের ঘনত্ব কমানোর গুরুদায়িত্ব কমাতে তাই এগিয়ে আসে চাকুরিপ্রার্থীরা, এইচ জি ওয়েলসের টাইম মেশিনের নতুন প্লটে ভবিষ্যতে নাকি মাটির ওপরে তারাই থাকবে।

তাই বলে অবজেক্টিভের টিক দাগাতে হবে যাদের নামে, সেই লেখকদের কি দমলে চলে? চৈত্রের বিকেলে মহীনের ঘোড়াগুলি ছাড়াই এক-একজন প্রচলন করে ভিউকার্ডের ইতরামি কি টুপির শিল্প।

১৯৭১ এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হবে না বলে পাকিস্তানে বাতিল সমাবেশ, মায়ানমারে বৌদ্ধভিক্ষুদের ওপর গুলি, কোথায় যেন অসুস্থ হয়ে কে জেলে মারা গেছে।

What’s on your mind? ; জানতে চাইছে ফেসবুক।

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাশা কোহেন কিংবা অ্যাবি হফম্যান, কিংবা সুহান উত্তর ছাড়েঃ Give Me A Moment, Would You, Friend? I’ve Never Been On Trial For My Thoughts Before.

০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
করোনাকে ভয় না পেলে কী হবে, ভ্যাক্সিনকে ভয় পেতে বীর বাঙালি মোটেই পিছপা নয়। তুখোড় এই রহস্যকে ভেদ করতে গল্প নিয়ে ফেলুদা ফিরলো আবার। তবে সিজিআই’এর সুলতানকে দেখে বাঘ নয়, মনে পড়ে বাঘের মাসী।

প্রকৃত বিড়াল দেখতে হলে চট্টগ্রামে যাও, সেখানে ইন্দুর বিলাই খেলা ডিক্লার করা, নচিকেতার গানের ভোট নষ্ট হবার ভয়ে অফিস কাচারি হাট হয়ে খোলা। আইডিয়া মেরে দেবার রোগটি অবশ্য আরো পুরোনো, প্লাগারিজমের চক্কর যতই থাক, মেট্রোরেলের ঠাপ খাওয়া ক্যাম্পাসে হাঁটলেও নাকি বাতির তলায় পড়া বিদ্যাসাগরকে পেছনে ফেলা যায়।

তারও আগে মহাভারতের অ্যাডিলেড বিপর্যয়ে সকলেই খুশি, কিন্তু টিম পেইনের দুঃখী মুখ দেখে লোকে এমন ভেঙে পড়ে যে রাগ করে তামিমকে এবার তারা গালি পর্যন্ত মারে না। এরপর তাকদীরের সাথে দুই ছটাক তাণ্ডব আর জানোয়ার মেশালেই বিকাশের মতো মূহুর্তেই সমাধান।

বইমেলা হবে নাকি, সে দ্বন্দ্বে বার্নি দাদু দুই টাকার মাস্ক পরে ঘুরে বেড়ান সর্বত্র। তখন বিরক্ত হয়ে মায়ানমারের গেইম অফ থ্রোনস আর ভারতের কৃষককে মুড়ি খেতে বলে বিভূতিভূষণ পড়তে যাই তো শীতের চোটে হাত পা জমে যাবার দশা, কিন্তু এদিকে সুপর্ণার নাম্বার হারিয়ে ফেলেছি।

সোভিয়েত ইউনিয়নে যাত্রীবাহী একটি বাস নীরবে গড়িয়ে চলে। হঠাৎ সের্গেই পাভলোভিচ ফেলে দীর্ঘনিঃশ্বাস। মিসেস পাভলোভিচ সাথে সাথে হয়ে ওঠেন ক্ষিপ্ত, ‘তোমাকে বলেছি না লোকের সামনে রাজনীতি নিয়ে কোনো কথা বলবে না!’

১২ জানুয়ারি, ২০২১
টিপ বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে থাকা এমা স্টোনের চাইতে সুন্দর আর কী আছে পৃথিবীতে?

রাতের ঢাকা শহর।

সেই ঢাকা, কবে কোন মোগল আমলে হীরালাল তবলচিকে সাথে করে লখনৌ থেকে উড়ে আসা গওহরজান বাইজী যেখানে চুড়িদার পাজামা আর ঘুঙুরের ছন্দে নাচাতো নবাববাড়ি; সেই ঢাকা, সাধকশ্রেষ্ঠ ব্রহ্মানন্দ গিরির মাথার ওপর দেবীর আদেশে উড়তে থাকা পাথর যেখানে এসে ঠাঁই পায় রমনার কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে; সেই ঢাকা, যেখানে বুড়িগঙ্গার নিচে হারিয়ে যাওয়া কোনো চর থেকে আজও বর্ষার রাতে চিৎকার করে ডেকে ওঠে কালে জমজম নামের কামান; আজ  কতকাল পরেও সেই ঢাকা শহর এইসব হালকা শীতের রাতে সোডিয়াম বাতির রিমিক্স আলোয় বহু গাড়ি এবং অগণিত কুত্তার বাচ্চা নিয়েও সুন্দর হয়ে ওঠে এমা স্টোনের চাইতে।

সেখানে এটিএমের পাহারায় নিয়োজিত এবং তোয়ালে বিছিয়ে ঘুমের অপেক্ষায় থাকা বুইড়া মামায় বুট পায়ে অকারণ হাঁটাহাঁটি করে রাত গভীর হবার আগেই নিজের কর্মদক্ষতা প্রমাণে; সেখানে ছক কাটার পরোয়া না করে স্যান্ডেল দিয়ে সীমানা টেনে ব্যাডমিন্টন খেলে সারাটা দিন ট্রাক থেকে মাল খালাস করা মাতারির পোলারা; সেখানে বুকের মাঝে শ্লেষা জড়ানো স্বরে লাইটপোস্টের নিচে বৃদ্ধা ফকিরের কোরআন পাঠ; সেখানে কয়েকদিনের পুরানো তেলেভাজার ঘ্রাণে মৌ মৌ গলির ওপরে বিদ্যুত, ইন্টারনেট আর ফোনের লাইনের মাঝে বসে ওম পোহায় অপুষ্টিতে ভোগা আকাশ।

শুধু ওই আকাশকে দেখেই মনে পড়ে, বেঁচে থাকার জন্য বার্ডম্যানকে যে ট্যাক্স দিতে হয়, তার নাম নিঃসঙ্গতা।

কতদিন কতকালের মানুষের ইতিহাস মুছে গেলো এমা স্টোনের ন্যাপকিন হতে, কিন্তু কালচে ওই আকাশ আজও অমলিন।