সুহান রিজওয়ান

লেখালেখি

ফুটবল নিয়ে ০৫ সিনেমা

গল্পটা প্রতি চার বছরে ফিরে ফিরে আসতো লাতিন আমেরিকার সাহিত্য জগতে।

মানুষটা নাকি তখন একমাসের জন্য বাড়ির দরজা বন্ধ রাখে, দরজার বাইরে নোটিশ দেয়ঃ খেলা দেখার জন্য বন্ধ। ওই একটা মাস নাকি মানুষটা টিভির সামনে নিজের প্রিয় চেয়ারে বসে শুধু খেলা দ্যাখে, আর সেটা নিয়ে লিখে যায়।

মানুষটা এদুয়ার্দো গ্যালিয়ানো, খেলাটা ফুটবল, আর সময়টা বিশ্বকাপ।

প্রিয় লেখক, ইতিহাসবিদ গ্যালিয়ানো আর বেঁচে নেই—কিন্তু তার সেই খেলা দেখার পাগলামিকে প্রতিনিয়ত দেখতে পাই অনেকের মাঝে। বিশ্বকাপ এলেই রাত জেগে খেলা দেখা যেন বাঙালির উৎসব-মনা প্রবৃত্তির একটা দিককে প্রকাশ করে নতুন ভাবে।

‘মহাশূন্যতায়’ প্রসঙ্গে

একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে বাংলাদেশি সাহিত্যের একটা বাঁক বদল ঘটেছে। বিশ্বায়নের হাত ধরে মার্গারেট অ্যাটউডের ডিস্টোপিয়া কি ডেভিড লিঞ্চের হরর—সবই ঢুকে গেছে বাঙালির জনমানসে, ফিকশনের জগতেও গত দশক থেকে সেটার একটা প্রতিফলন পাওয়া যায়। নতুন যে লেখকেরা লিখতে শুরু করেন এই সময়টায়— জঁরা হোক কি লিটারারি ফিকশন, উভয় ধারাতেই —পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্য আর চোখে পড়ার মতো আত্মবিশ্বাস দেখা যায় তাদের মাঝে। উদ্দিষ্ট এসব লেখকের মাঝে এক দশক পরেও যারা টিকে গেছেন আর পাঠকের কাছে যাদের পরিচিতি ক্রমশ বাড়ছে—তানজীম রহমান তাদের মাঝে অন্যতম।

নিভু নিভু ‘দূরের তারা’

[২০০৩ সালে রোবের্তো বোলানিওর এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন মিওনিকা মারিস্টেইন। প্লেবয় পত্রিকার মেক্সিকান সংস্করণে যেদিন সাক্ষাৎকারটা প্রকাশ পায়, কাকতালীয় ভাবে সেই ১৫ জুলাইতেই মৃত্যু হয় বোলানিওর।

সাক্ষাৎকারের শিরোনাম দেওয়া হয়েছিলো বোলেনিওর উপন্যাস, ‘দা ডিসট্যান্ট স্টার’ হতে। বোলানিও প্রশ্নগুলোর জবাব দিয়েছিলেন লিখে লিখে। উত্তরগুলোয় খুঁজে পাওয়া যাবে লেখকের চিরাচরিত কৌতুকী স্বভাব।]

স্প্যানিশ-ভাষী সাহিত্যের লুতুপুতু দুনিয়ায়— যেখানে তরুণ লেখকেরা সৃজনশীলতার জগতে কিছু যোগ করার চাইতে দিনকে দিন পুরস্কার বাগানোতেই অধিক মনোযোগী হয়ে উঠছেন— ঢ্যাঙা এক লেখকের অবয়ব ক্রমশ দীর্ঘতর হচ্ছে। পিঠে সদা-প্রস্তুত ব্যাগপ্যাক, হাতে চিরন্তন সিগারেটের ধোঁয়া, চোখে বিশাল চশমা আর ঠোঁট থেকে তার অবিরাম ছিটকে আসে কৌতুক।

‘দেলুপি’ নিয়ে কয়েক লাইন

(১)
বাংলাদেশের সিনেমাকে মোটাদাগে বোধহয় ভাগ করা যায় দুই শ্রেণীতে। পুরোদস্তুর ফর্মূলা নির্মিত বাণিজ্যিক সিনেমা এবং উঁচু শিল্পমান লক্ষ্য করে নির্মিত সিনেমা। জানি না বড় পরিসরে সত্য কি না, তবে গত কয়েক বছরের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ থেকে মনে হয়—এই দুইয়ের মাঝেও খুব ধীরে একটা শ্রেণী বাংলা সিনেমায় তৈরি হচ্ছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মাঝ দিয়ে প্রযুক্তি-শিক্ষিত দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন যে পরিচালকেরা, তারা অনেকেই বড়পর্দার জন্য সিনেমা নির্মাণ করে মধ্যবিত্ত দর্শকের মাঝে ছোট-মাঝারি-বড় নানা আকারের আলোড়ন তুলছেন। এবং আলোড়নগুলো ঠিক বিক্ষিপ্ত বলে মনে হচ্ছে না।

অন্যভাবে বলতে গেলে, প্রায় নিয়মিত বিরতিতে নতুন যে সব সিনেমা চলে আসছে অনলাইনের আলোচনায়—তাদের একটা বড় অংশকেই আজকাল নাম শুনেই কোনো নির্দিষ্ট বর্গে ছুঁড়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ছায়া পৃথিবীর চোখ দিয়ে

অরহান পামুক কোথাও বলেছিলেন, পৃথিবীর সমস্ত ভালো উপন্যাসই কার্যক্ষেত্রে রাজনৈতিক উপন্যাস। রাজনৈতিক, কারণ ভালো উপন্যাস মানেই দ্বিতীয় কোনো মানুষের মন বা বর্গকে পড়তে চাওয়া। অথচ, গড়পড়তা পাঠক ‘রাজনৈতিক উপন্যাস’ বলতে বোঝে এমন কোনো রচনা, যার পটভূমিতে আছে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা ঘটনা বা সময়কাল। রায়হান রাইনের ‘নিখোঁজ মানুষেরা’ সেই বিচারে নিশ্চিতভাবেই রাজনৈতিক উপন্যাস। পড়তে গিয়ে টের পাই, স্বল্পায়তনের এই উপন্যাসে গত দশকের বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নানা রাজনৈতিক ঘটনার বুড়ি ছুঁয়ে ছুঁয়ে গেলেন রায়হান।

টুয়েলভ মিলিয়ন অ্যাংগ্রি ম্যান

(১)
সোশ্যাল মিডিয়ার মব ট্রায়ালের বাস্তবতা উপেক্ষা করার দিন এখন গত, আক্ষরিক অর্থেই দুনিয়া আজ চলে গেছে অন্ততঃ টুয়েলভ মিলিয়ন অ্যাংগ্রি ম্যানের হাতে। অথচ অনলাইন নির্ভর এসব বিচারের সংস্কৃতি নিয়ে ভালো কাহিনির মুখোমুখি হয়েছি খুব কম। ভাবতে গেলে প্রথমেই মনে পড়ে কেট ব্লানশেট অভিনীত টড ফিলিপসের সিনেমা ‘টার’-এর কথা। এছাড়াও খেয়াল হয় পছন্দের টিভি সিরিজ ‘নিউজরুম’-এর কয়েকটা পর্ব, যেখানে ধুয়ে দেওয়া হয়েছে নেটিজেনদের বিচারক হয়ে ওঠার ব্যাপারটাকে। তবে বইয়ের পাতায় বিষয়টাকে তীব্র ভাবে আবিষ্কার করা—আমার অভিজ্ঞতায় অন্ততঃ হয়ে ওঠেনি অ্যাতোদিন।

পাঠক হিসেবে সেই অপ্রাপ্তি কেটে গেলো নিক দ্রাসোর চিত্রোপন্যাস ‘সাবরিনা’ পড়ে।

লঙ্কান এক রকস্টারের উপন্যাস

(১)
শেহান করুণাতিলকার সাথে পরিচয় আক্ষরিক অর্থেই ‘চান রাইতে’। রমজানের ঈদের ঠিক আগের সন্ধ্যাটায় কিছু করবার খুঁজে না পেয়ে কিন্ডলে পড়া শুরু করলাম শেহানের প্রথম উপন্যাস ‘চায়নাম্যানঃ দা লিজেন্ড অফ প্রদীপ ম্যাথু’। আর কয়েক পাতা পড়তেই আবিষ্কার করলাম, পাঠক হিসেবে আরও একবার ঈদের চাঁদ দেখার আনন্দ দিচ্ছে উপন্যাসটা। ক্রিকেট ভক্ত হিসেবে বইটার স্বাদ তাড়িয়ে তাড়িয়ে গ্রহণ করতে তাই সিদ্ধান্ত নিলাম, এই উপন্যাস পড়তে হবে পুরোদস্তুর কাগুজে বই কিনেই।

মাস দুয়েকের মাঝে যোগাড় করা হলো ‘চায়নাম্যান’-এর পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া সংস্করণ। উপন্যাসটা ঢাউস আকারের, প্রায় ৫০০ পাতার। অথচ, পড়তে গিয়ে এমন আনন্দ হলো, শ্রীলঙ্কান লেখক শেহান করুণাতিলকার পরবর্তী—এবং বুকার পুরস্কার জেতার সুবাদে আরও বিখ্যাত কাজ—উপন্যাস ‘দা সেভেন মুনস অফ মালি আলমেইদা’ও সংগ্রহ করতে দেরি করলাম না। বিলম্ব হলো না, সেটা পড়ে শেষ করতেও।

Page 1 of 20

Powered by WordPress & Theme by Anders Norén

error: Content is protected !!