সুহান রিজওয়ান

লেখালেখি

শার্লক সন্ধানে

কৌশিক মজুমদারের লেখার সাথে এবারই প্রথম আলাপ নয়, এই মাসখানেক আগেই পড়ার ভাগ্য হয়েছিলো তার রহস্যোপন্যাস, ‘সূর্যতামসী’। উনিশ শতকের কলকাতা শহরে একটি রহস্যময় খুন, ‘দারোগার দপ্তর’ খ্যাত প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় কিংবা বাংলার যাদুকরদের আদিগুরু গণপতি রায়ের উপস্থিতি, শ’খানেক বছর আধুনিক কলকাতাতেও পুরোনো সেই রহস্যের ফিরে আসা; কিছুই যেন বাদ যায়নি সে বইতে। অথচ অমন সব মুখরোচক জাংকফুডের আধিক্য সত্ত্বেও, ‘সূর্যতামসী’ পড়ে অনুভূতি হচ্ছিলো থ্রিলার নয়, রীতিমতো এনসাইক্লোপিডিয়া পাঠের।

দ্বিতীয় মাও

এক ধরনের মিশ্র অনুভূতিতে আক্রান্ত হলাম ডন ডি লিলো’র উপন্যাস ‘দ্বিতীয় মাও’ শেষ করে। সেই ডি লিলো, যিনি উপন্যাস লিখতে বসে প্রতি পাতায় কেবল একটা অনুচ্ছেদ বসান, সেই ডি লিলো, আধুনিক মার্কিনি সাহিত্যজগতে পাগলাটে ওঝা বলেও যিনি খ্যাত; তার সাথে অবশেষে আমার সাক্ষাৎ হলো এই ‘দ্বিতীয় মাও’ কে কেন্দ্র করেই। কেমন লাগলো সেই মোলাকাত, তা নিয়ে আলোচনার আগে মনে হয় উদ্দিষ্ট উপন্যাসের কাহিনি সম্পর্কে খানিক বর্ণনা দিয়ে নেওয়া ভালো।

বইমেলা ২০২০/ কিস্তি ০৬

[ ২০২০ এর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত বইগুলোর কয়েকটাকে নিয়ে আমার এলোমেলো পাঠানুভূতি গুছিয়ে রাখার জন্য এই ধারাবাহিক। আজ রইলো এর ষষ্ঠ পর্ব। ধারাবাহিকের সবগুলো কিস্তি পাওয়া যাবে এইখানে ]

সেই বই-ই তো নতুন যা পড়া হয়ে ওঠেনি আমাদের। কাজেই ২০২১ এর মাঝপথ পেরিয়ে গেলেও ২০২০ এর বইমেলায় প্রকাশিত এবং এখনো অপঠিত বইগুলোকে আমি গণ্য করি নতুন বই হিসেবেই। তেমনই দুটো নতুন বই নিয়েই থাকলো আজকের সংক্ষিপ্ত আলাপ।

সাত মানিক

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম বা মৃত্যুবার্ষিকী সমাগত হলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দারুণ সরগরম হয়ে ওঠে তাকে নিয়ে আক্ষেপে। কেন মানিক জনপ্রিয় হলেন না, অথবা বিশ্ব দরবারে অনুবাদের মাধ্যমে তাকে আরো পরিচিত করে তোলা গেলে কী হতে পারতো; এমন সব প্রশ্ন ঘোরে প্রচুর। প্রশ্নের চেয়েও বেশি ঘোরে মানিককে নিয়ে বলতে বলতে জীর্ণ হয়ে পড়া কিছু তথ্যঃ বাজি ধরে গল্প লেখা, নামের বদল, মদ্যপানের নেশা, আর্থিক দুর্গতি, মার্ক্সিস্ট দৃষ্টিভঙ্গি, ফ্রয়েডবাজি।

আন্না কারেনিনার জন্য কয়েকটি লাইন

পৃথিবীতে আর কোনো উপন্যাস নিয়ে বোধহয় তত আলোচনা হয়নি, যতটা হয়েছে লিও তলস্তয়ের ‘আন্না কারেনিনা’ নিয়ে। তলস্তয়েরই আরেক উপন্যাস ‘যুদ্ধ এবং শান্তি’তে চরিত্রের সমাহার আরো বেশি, তলস্তয়ের নৈপুণ্য সেখানে আরো বেশি রঙ নিয়ে প্রকাশিত; তবু যেন ‘আন্না কারেনিনা’ই আজও একটু বেশি চমৎকার মানুষের কাছে। গ্রেটা গার্বো থেকে একালের কেইরা নাইটলি পর্যন্ত পর্দায় রুপায়ন করতে চেয়েছে আন্না কারেনিনা-কে।

ঢাকার কাছে প্রেমপত্র

টিপ বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় একাকী দাঁড়িয়ে থাকা এমা স্টোনের চাইতেও আমার আকর্ষণীয় মনে হয় ঢাকা শহরকে।

সেই ঢাকা, কবে কোন মোগল আমলে হীরালাল তবলচিকে সাথে করে লখনৌ থেকে উড়ে আসা গওহরজান বাইজী যেখানে চুড়িদার পাজামা আর ঘুঙুরের ছন্দে নাচাতো নবাববাড়ি; সেই ঢাকা শহর, সাড়ে তিনশো বছরেরও আগে ট্যাভেরনিয়ার যেখানে অবাক দৃষ্টিতে দেখেছিলেন পাগলা নদীর দুধারে লম্বা টাওয়ারে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ধৃত ডাকাতদের কেটে নেওয়া মাথা; সেই ঢাকা, সাধকশ্রেষ্ঠ ব্রহ্মানন্দ গিরির মাথার ওপর দেবীর আদেশে উড়তে থাকা পাথর যেখানে এসে ঠাঁই পায় রমনার কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে; ইদানিং যানজট এবং অগণিত কুত্তার বাচ্চা নিয়েও সেই ঢাকা আমার কাছে চিরকালের এক প্রেম। যেহেতু এই শহর জানে আমার প্রথম সবকিছু, জয়েসের ডাবলিনার্স কিংবা পামুকের ইস্তানবুলের মতো তাকে নিয়ে একটা দীর্ঘ প্রেমপত্র লিখতে আমার হাত কেবলই নিশপিশ করে।

তিনটি অণু গল্প

পূর্বপরিচিত

ভাগ্যক্রমে দেখা হয়ে যাওয়ায় তারা আলিঙ্গন করলো একে অপরকে। ‘কতদিন দেখা হয়নি!’ বলে আক্ষেপ করলো দুজনেই। তারপর তারা খবর নিলো একে অন্যের, ফোন নাম্বার বিনিময় হলো, দেয়া হলো কফি খেতে দেখা হবার প্রতিশ্রুতিও।

Page 1 of 14

Powered by WordPress & Theme by Anders Norén

error: Content is protected !!