সুহান রিজওয়ান

লেখালেখি

ঘ্রাণময় চিরকুট

আত্মজীবনী ঘরানার রচনা In Sensorium : Notes for my people এর জন্য সম্প্রতি কারকাস রিভিউ সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন তন্বী নন্দিনী ইসলাম, যিনি লেখেন তানাইস (TaNaIs) নামে। অনলাইনে খবরটা চোখে পড়তে ভালো লাগে দুই কারণে। (১) বইটা সদ্য পড়া হয়েছে আমার। নিজের পড়া আর ভালো লাগা কোনো বই যদি সাহিত্য পুরস্কার পায়, কোন পাঠকের তা ভালো না লাগে! (২) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা তানাইস মূলত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।

সত্যি বলতে, দ্বিতীয় কারণটাই মুখ্য। তানাইসকে চিনতে, তার লেখার জগতের খোঁজ পেতে হয়তো আরেকটু দেরি হতো আমার; যদি না তিনি আমাদের এক সুহৃদের আত্মজা হতেন। ফলে তানাইসের উল্লিখিত বইটা এক পরিচিতজনের কাছে দেখতেই হস্তগত করতে আমি দেরি করি না। স্বীকার করি, বয়েসে তিনি পাঠকের প্রায় সমসাময়িক বলেও তার গল্প শোনার জন্য বাড়তি একটা আগ্রহ কাজ করে। দেখতে চাই, দুনিয়ার আরেক প্রান্তে বসে ঠিক কোন চোখে তিনি দেখছেন পৃথিবীকে।

ডিস্টোপিয়া প্রসঙ্গে

০১।
ধরা যাক, অদূর ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একদিন হঠাৎ অভ্যুত্থানে বদলে গেলো ‘গিলিয়াড’ নামের কোনো প্রজাতন্ত্রে। তারপর সামরিক জান্তা সেই প্রজাতন্ত্রকে ক্রমশ বদলে দিলো চূড়ান্ত কর্তৃত্ববাদী আর পুরুষতান্ত্রিক এক রাষ্ট্রে। গিলিয়াড রাষ্ট্রে সবচেয়ে নাজুক অবস্থান হলো নারীর, কেড়ে নেওয়া হলো তার সন্তান জন্মদানের অধিকার। দুঃস্বপ্নের এখানেই শেষ নয়, নারীদের এবার কাজে লাগানো হলো কেবল শাসক শ্রেণীর জন্য সন্তান উৎপাদনের কাজে…।

মার্গারেট অ্যাটউডের দুনিয়া-বিখ্যাত ডিস্টোপিয়ান উপন্যাস ‘দা হ্যান্ডসমেইড টেইল’ এর কাহিনি এগিয়ে গেছে এভাবেই, পাঠককে ক্রমাগত অস্বস্তি দিয়ে। কুঁচকানো ভুরু আর মৃদু আতঙ্ক নিয়েও পাঠক কিন্তু ঠিকই পড়ে গেছে কাল্পনিক রাষ্ট্র গিলিয়াডের গল্প, এবং একরকম উপভোগও করেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, ভবিষ্যতের বিকৃত একটা রুপ দেখানো এই ধরনের কল্প-সাহিত্য (ফিকশন) পড়তে কেন ভালো লাগে পাঠকের? কেন স্বস্তির চাইতে অনেক বেশি অস্বস্তির সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হলেও ডিস্টোপিয়ান ফিকশনরা আমাদের আনন্দ দেয়?

কদর্য সব আরব্য রজনী

হাতে জমে থাকা বইয়ের স্তূপ আর ইন্টারনেটে গণ্ডায় গণ্ডায় ঘুরে বেড়ানো মাগনা ই-বই এর দৌরাত্ম্যে যেটা হয়েছে, সদ্য প্রকাশিত বই কেনার ক্ষেত্রে মন ইদানিং অনেক যাচাই-বাছাই করে। নতুন বের হওয়া কোনো বই কিনবো কি না, স্বীকার করি, অনলাইনের নানা প্রতিক্রিয়াও আজকাল ভূমিকা রাখে সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করায়। এসব হিসাবের বাইরে রাখি কেবল অল্প কিছু লেখককে। তাদের নতুন কোনো বই এলে, সেটা সংগ্রহ করে নিয়ে পড়তে আমার দেরি হয় না। ব্যক্তিগত সেই তালিকার একদম প্রথম দিকেই থাকেন শাহীন আখতার।

জুলাইয়ের দুপুরে জনৈক বইপড়ুয়া

জুলাই মাসের এক সকালবেলায়- দুপুরও হতে পারে- অন্তর্জালে একটা ক্লিক করে আপনি ঢুকে পড়েছেন সুহান রিজওয়ানের লেখালেখির সাইটে, লিংকটা বলছিলো এখানে ইতালো কালভিনোর উপন্যাস ইফ অন আ উইন্টারস নাইট এ ট্রাভেলার’ এর পাঠ-প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাবে।

হ্যাঁ, এই সাইটে আপনি সত্যিই সুহানের লেখাটা পড়তে পারবেন। কিন্তু ধৈর্য্য ধরতে হবে। জানি, কয়েক লাইন পড়ে ফেলার পরেও উদ্দিষ্ট বইটা নিয়ে কিছু খুঁজে না পেয়ে আপনি অধৈর্য হচ্ছেন, সাথে সাথে, নিজের বিচারও আপনাকে ক্রমাগত বলে যাচ্ছে যে এই লেখাটা চট করে স্ক্রল করে পড়া যাবে না। তবে এটা ঠিক, যে বই নিয়ে এই বিচিত্র ভঙ্গীতে লেখা প্রতিক্রিয়া আপনার কৌতূহল জাগিয়েছে, আপনি তাই পড়ে যাচ্ছেন। কিন্তু আপনি এটাও জানেন যে অন্তর্জালে কোনো কিছুতে মন দেয়া কেমন কষ্ট, তাই আপনি ভয় পাচ্ছেনঃ যে এলোমেলো এই লেখা আপনাকে অচিরেই করে তুলবে ক্লান্ত। এসব ফালতু বকুনি আর কতক্ষণ?

কোথাও ডাইনি আজও হতেছে শিকার

১৬৯২ সালের আমেরিকা; সালেম, ম্যাসাচুসেটস। ছোটো একটা শহর, চারিদিকে জঙ্গল ঘেরা। সেই জঙ্গলের মাঝেই একদল কিশোরী মেয়ে নেচে নেচে খেলছিলো একদিন, সাথে ছিলো এক কৃষ্ণাঙ্গ দাসী, তিতুবা। কোনো এক শহরবাসীর চোখে পড়ে যায় এই অতি-সাধারণ দৃশ্যটি। আর তারপর, মানুষের কূটবুদ্ধি আর রাজনীতির প্যাঁচে পড়ে এই তুচ্ছ ব্যাপারটাই হয়ে দাঁড়ায় ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটা; যা কুখ্যাত হয়ে আছে ‘ডাইনি শিকার’ (Witch Hunting) নামে।

কী ঘটেছিলো ১৬৯২ এর সালেমে?

‘কীভাবে পর্নোগ্রাফিক সিনেমা চিনবেন’: উমবার্তো ইকো

পর্নোগ্রাফিক সিনেমা কীভাবে চেনা যায়?

জানি, প্রশ্নটা শুনে ভুরু কুঁচকে ফেলবেন কেউ কেউ, তরুণেরা হেসেও উঠতে পারেন। আরে বাবা নানা রকম ওয়েবসাইটে দিনে-রাতে সমানে পর্নোগ্রাফি চলছে, একজনের ডাউনলোড করা ইরোটিকা কিংবা পর্নোগ্রাফি মুঠোফোন থেকে মুঠোফোনে ছড়িয়ে পড়ছে দিগ্বিদিক; এমন যুগে পর্নোগ্রাফিক সিনেমা চিনতে কারো মাথা ঘামাতে হবে কেন!

গল্পের একটি সম্ভাব্য চরিত্র

০১)
‘বেণীসংহার’ নামে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা গল্প আছে, সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সী যে গল্পের নায়ক। বেণীমাধব নামের এক বিপত্নীক প্রৌঢ় রহস্যজনকভাবে খুন হন নিজ বাড়িতে। খুন করা হয় দরজা পাহারায় থাকা তার একান্ত সহকারী মেঘরাজকেও। বাড়িতে বাস করা বেণীমাধবের পুত্র-কন্যা এবং অন্যান্য আত্মীয়দের অনেকেরই মোটিভ আছে ওই প্রৌঢ়কে হত্যার। একাধিক সন্দেহভাজনের মাঝে কে প্রকৃত খুনী, সেই সুরাহা করতে দৃশ্যপটে আগমন ঘটে ব্যোমকেশের।

ব্যোমকেশের প্রায় শেষ বয়েসের কেস ছিল ওই বেণীসংহার। প্রথম যখন পড়ি গল্পটা, এখনও স্মরণ হয়, সেটাকে খানিক আলাদা মনে হচ্ছিল শরদিন্দুর ন্যারেটিভ ভিন্নতার কারণে। অতটা লম্বা ফ্ল্যাশব্যাক, সম্ভবত ব্যোমকেশের অন্য কোনো গল্পে নেই।

Page 1 of 16

Powered by WordPress & Theme by Anders Norén

error: Content is protected !!